cpim sitaram anti bjp
আলোচনা সভায় বিজেপি বিরোধী নেতারা। ছবি: রূপা

ওয়েবডেস্ক: ‘মোদী বনাম কে’ নয়, সামনের বছরের নির্বাচনের মূল সূর হবে মোদী বনাম গোটা ভারত। এমনই বললেন সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

কপিল সিবালের একটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ উপলক্ষে বিজেপি বিরোধী একাধিক দলের নেতাদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল রূপা প্রকাশনী সংস্থা। সেখানেই এই কথাগুলি বলেন ইয়েচুরি।

এই আলোচনাসভায় ইয়েচুরি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম, সম্প্রতি বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া চন্দন মিত্র, প্রাক্তন জেডিইউ নেতা শরদ যাদব এবং সিবাল নিজে। অন্তত ২৫টা রাজ্যে বিজেপি-বিরোধী ঐক্যবদ্ধ জোট তৈরি হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন চিদম্বরম।

আরও পড়ুন তৃণমূল নেতা খুনে ব্যক্তিগত আক্রোশের কথা কবুল করে নেওয়া দলীয় নেতার দায় নেবে না বিজেপি

বিরোধীদের কোনো মুখ নেই, তা হলে কি তাদের অভিযান কিছুটা ধাক্কা খাবে না? অনুষ্ঠান সঞ্চালকের এই প্রশ্নটি কার্যত একযোগে প্রত্যাখ্যান করেন সব নেতাই। ১৯৭৭ এবং ১৯৮৯-এর নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে যাদব বলেন, “নির্বাচনের পরে মোরারজি দেশাই এবং ভিপি সিংহের নাম এসেছিল।” এর পরেই ইয়েচুরি বলেন, “সামনের নির্বাচনের মূল সূর হবে ‘মোদী বনাম ভারত’।”

গত চার বছরে মোদী সরকারের ব্যর্থতা এবং ২০১৪-এর কংগ্রেসের খারাপ ফলের পর্যালোচনা করে কপিল সিবালের এই বই ‘শেডস অফ ট্রুথ’ প্রকাশ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এবং প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। বই প্রকাশের মঞ্চেই মোদী সরকারকে তুলোধোনা করেন মনমোহন। সোজাসাপটা বলে দেন, মোদী সরকার সব কিছুতেই ব্যর্থ।

আলোচনাসভায় উপস্থিত সবাই একটা ব্যাপার নিশ্চিত করে বলেন। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ জোট হলে কোনো ভাবেই ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না বিজেপি। সিবাল বলেন, “সব কিছুই নির্ভর করছে দু’টো রাজ্যের ওপরে। বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ। গোরক্ষপুর, ফুলপুর এবং কৈরানার উপনির্বাচন থেকে বুঝেছি, বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হলে বিজেপির জেতার কোনো সম্ভাবনাই নেই। সামনের বছর লোকসভা নির্বাচনে এটাই মূলমন্ত্র হওয়া উচিত। এটা হলে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরবে না।”

আরও পড়ুন পাথরবাজদের ধরতে কাশ্মীর পুলিশের অভিনব পন্থা আপনাকে চমকে দেবেই

ইয়েচুরি বলেন, “আমাদের প্রথম যে কাজটা করতে হবে তা হল যে করেই হোক, বিজেপিকে ক্ষমতায় ফিরতে না দেওয়া। সেই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ জোটের হাত ধরে ভারতকে শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য।” বিরোধীদের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চন্দনবাবু বলে দেন, সামনের বছর প্রধানমন্ত্রী কোনো আঞ্চলিক নেতাই হবেন।

হাস্যরসে ভরা এই আলোচনাসভায় কোনো রাখঢাক না রেখেই চিদম্বরম স্বীকার করে নেন কংগ্রেসের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রকে ইমপিচ করার যে সিদ্ধান্ত কংগ্রেস নিয়েছিল তার বিরোধিতা করেছিলেন চিদম্বরম। সেই উদ্দেশ্য অবশ্য সফল হয়নি। এই প্রসঙ্গে শরদ যাদব বলেন, “তার পর থেকে সুপ্রিম কোর্ট ভালো ভালো নির্দেশিকা দিচ্ছে।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন