ওয়েবডেস্ক: এলফিনস্টোন রোড স্টেশনের ফুটব্রিজে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষ করে এনেছে মুম্বই পুলিশ। ২৯ সেপ্টেম্বর এই দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন ৩৯ জন।

কী উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে?

এই দুর্ঘটনা মূলত দু’টি কারণে ঘটেছে বলে তদন্তের পর মনে করছে পুলিশ। এর একটি কারণ হল, ঘটনার সময় প্রচণ্ড জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে বহু যাত্রী বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ফুটব্রিজের মধ্যেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। এ ছাড়া একের পর এক ট্রেন আসছিল স্টেশনে। সেই ট্রেন থেকে যাত্রীরা নেমে আশ্রয় নিচ্ছিলেন ওই ফুটব্রিজে। ফলে ভিড়ে ঠাসা হয়ে গিয়েছিল ফুটব্রিজ। বিশেষ করে ফুটব্রিজের মুখটাতে সব চেয়ে বেশি ভিড় ছিল।

দাদর পুলিশ স্টেশনের আধিকারিকরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন। একটি সিসিটিভি ছিল বুকিং কাউন্টারে, অন্যটি স্টেশন থেকে বেরোনোর মুখে। সেগুলি থেকে ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না ঠিক কী পরিমাণ ভিড় হয়েছিল ফুটব্রিজে। তবু যতটুকু ছবি পাওয়া গিয়েছে তা খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সকাল ১০টা ২৬ নাগাদ কয়েক জন যাত্রী তাঁদের মোবাইল ফোনে কিছুর ছবি তুলছেন। যে ফুটব্রিজে দুর্ঘটনা ঘটেছে মোবাইল ফোন সেই দিকে তাক করা। সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০টা ২৬ থেকে ১০টা ৩৫ — এই ন’মিনিট ধরে ঘটনাটি ঘটেছে।

এলফিনস্টোন রোড স্টেশনে প্রতি চার মিনিট অন্তর ট্রেন আসে। ফলে বৃষ্টির সময় ফুটব্রিজে যাত্রীর ভিড় ক্রমশ বেড়েছে। তদন্তে রেল আধিকারিকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাত্রীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় মানুষরাই ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তাঁরা হাত লাগান উদ্ধারের কাজে।

তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। ভিড়ের চাপে এক ফুল বিক্রেতার ফুল পড়ে যায়। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন ‘ফুল গির গ্যয়া’ (ফুল পড়ে গেছে) সেটাই কেউ কেউ শুনতে পান ‘পুল গির গ্যয়া’ (পুল ভেঙে পড়েছে)। ঠিক একই সময় একটি অল্পবয়সি মেয়ে পড়ে যায়। ফলে সব মিলিয়ে একটি আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয় যাত্রীদের মধ্যে। শুরু হুড়োহুড়ি। মাত্র মিনিট দুয়েকের মধ্যে মৃত্যু হয় ২২ জনের।

আরও পড়ুন: ভেঙে পড়া ফুটব্রিজে মৃত্যুপথযাত্রীর শ্লীলতাহানি! ছড়িয়েছে ভিডিও 

শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওড়াল পুলিশ

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় উদ্ধারের নামে যে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে দেখা গিয়েছে তা ঠিক নয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় যাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে, তিনি আসলে আটকে পড়া ওই মহিলাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছিলেন। সহকারী পুলিশ কমিশনার সুনীল দেশমুখ এই তথ্যকেই সঠিক বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here