পর্নোগ্রাফি এবং যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়বস্তু প্রতিরোধ আইন থেকে কী ভাবে আলাদা ইরোটিকা?

0

পর্নোগ্রাফি এবং ইরোটিকার মধ্যে তফাতটা কী?

খবর অনলাইন ডেস্ক: বোল্ড ওয়েব সিরিজের যুগে ‘পর্নো’ এবং ‘ইরোটিকা’-র মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন করে হইচই। এর নেপথ্যে অবশ্য এক জনই, স্বনামধন্য ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা (Raj Kundra)।

Shyamsundar

পর্নো ছবি তৈরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির (Shilpa Shetty) স্বামী রাজ কুন্দ্রা। পর্নোছবি তৈরি এবং তা নিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। ‘হটশটস’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে রাজের বিরুদ্ধে। অ্যাপটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ছবি দেখানোর জন্যই চালু করা হয়।

তবে রাজের আইনজীবী সুভাষ যাদবের যুক্তি, “শুধুমাত্র প্রকৃত যৌন মিলনের চিত্রায়নকেই ‘পর্নো’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং বাকি সব কিছুই ‘অশ্লীল বিষয়বস্তু’।

হাই-প্রোফাইল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই, আসুন জেনে নেওয়া যাক, পর্নোগ্রাফি (Pornography) এবং ইরোটিকার (Erotica) মধ্যে তফাতটা কী?

পর্নোগ্রাফি কী?

শুধুমাত্র যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করার উদ্দেশে তৈরি ছবিকেই পর্নোগ্রাফি বলে বিবেচনা করা হয়। অক্সফোর্ড অভিধান অনুযায়ী, “কাউকে যৌন উত্তেজিত করার জন্য নগ্ন ব্যক্তি এবং যৌন ক্রিয়াকলাপের বর্ণনা বা প্রদর্শনকে পর্নোগ্রাফি বলা হয়, যা অন্য অনেক মানুষের কাছে আপত্তিজনক বলে মনে হয়”।

ইরোটিকা কী?

ইরোটিকা হল এমন কোনো শিল্পকর্ম, যা উত্তেজক বা যৌন উত্তেজনার বিষয় নিয়ে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে চিত্রকলা, ভাস্কর্য, ফোটোগ্রাফি, নাটক, চলচ্চিত্র, সংগীত বা সাহিত্য। ইরোটিকা কোনো ব্যক্তির শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসাবে বিবেচিত হয় এবং যার একমাত্র লক্ষ্য শিল্পটিকে প্রশংসনীয় করে তোলা।

ভারতে পর্নোগ্রাফি কোন আইনে বিচার্য?

তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) আইন ২০০০, ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষা (POCSO) আইন ২০১২-র আওতায় সাধারণ ভাবে পর্নো বিষয়বস্তু সম্পর্কিত অভিযোগের বিচার করা হয়।

আইটি অ্যাক্ট ২০০০-এর ধারা ৬৭ এবং ৬৭এ

এই ধারা “অশ্লীল উপাদান” ইলেকট্রনিক আকারে প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়া রোধ করে। এতে বলা হয়েছে, “অস্পষ্ট বা চূড়ান্ত স্বার্থের জন্য ইলেক্ট্রনিক আকারে এমন কোনো উপাদান প্রকাশ করা বা পাঠানো অথবা ছড়িয়ে দেওয়ার ফল হিসেবে কলুষিত করা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঝোঁক বাড়ানোর জন্য দোষীর তিন বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।

আইনজ্ঞদের মতে, যদি ‘সুস্পষ্ট ভাবে যৌন’ ক্রিয়াকলাপ দেখানো হয়, সেটার জন্য রয়েছে এই আইনের ৬৭এ ধারা। এমনকি, যদি সরাসরি কোনো যৌনমিলন না হয় এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজের পোশাক সরিয়ে ফেলে এবং হস্তমৈথুনের মতো অশ্লীল আচরণে লিপ্ত হয়, তবে সে ক্ষেত্রে ৬৭এ ধারাটি প্রযোজ্য হবে।

তবে ‘অশ্লীল উপাদান’-এর মাধ্যমে যৌন ক্রিয়াকলাপ ঘটাতে পারে এমন বিষয় ধারা ৬৭-তেই বিচার্য। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭এ ধারা অনুযায়ী কেউ পর্নোগ্রাফির সম্প্রচারে ধরা পড়লে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ৫ বছর পর্যন্ত কারাবাসের শাস্তি হতে পারে।

তথ্য ও ছবি: timesnownews.com

আরও পড়তে পারেন: পর্ন-কাণ্ড: রাজ কুন্দ্রার জরুরি জামিনের আবেদন ফেরাল আদালত

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন