আইআরসিটিসি যতই চেষ্টা করুক, ট্রেনে খাবারের দাম বেশি নেওয়া চলছেই

0
237

নয়াদিল্লি : ফেব্রুয়ারির পর জুন, আরও একবার রেলের ‘প্যান্ট্রি কার’-এর দুর্নীতি সামনে এল।

নিউ তিনসুকিয়া রাজেন্দ্রনগর পটনা এক্সপ্রেসে করে দুলিয়াজান থেকে ডিমাপুর যাচ্ছিলেন বরেলির নীলাভ খানিকার। সঙ্গে ছিলেন তাঁর পরিবার। যাওয়ার পথে রেলে তিনি দু’প্লেট ডিম বিরিয়ানি কিনেছিলেন। সেই খাবারের প্লেটপিছু তাঁর কাছ থেকে দাম নেওয়া হয়েছিল ৮০ টাকা। তিনি টাকা দিয়েও দেন। কিন্তু দাম শুনে তাঁর খটকা লাগে। তিনি সোজা চলে যান রেলের প্যান্ট্রিকারে। সেখানে তিনি ‘মেনু কার্ড’টা দেখাতে বলেন। সেটা হাতে আসতেই তাঁর সন্দেহ সত্যি হয়ে যায়। নীলাভ দেখেন সেখানে ১ প্লেট ডিম বিরিয়ানির দাম ধার্য করা হয়েছে ৬৩ টাকা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি রেলের সেই কর্মীকে খুঁজে বের করেন, যিনি তাঁকে ৮০ টাকা নিয়ে ডিম বিরিয়ানি দিয়েছিলেন। জানতে চান, কেন তাঁর কাছ থেকে ৬৩ টাকার জায়গায় ৮০ টাকা করে দাম নেওয়া হয়েছে। এমনকি ‘প্যান্ট্রি কার’-এর আধিকারিকদের কাছেও জানতে চান কেন এই ভাবে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে? আর এই গোটা ঘটনাটা তিনি রেকর্ডিং করে রাখেন। তাঁকে এই রেকর্ডিং বন্ধ করার জন্যও বলা হয়। কিন্তু নীলাভ রেকর্ড করা বন্ধ করেননি। উলটে নীলাভ পরিষ্কার জানিয়ে দেন তিনি এই রেকর্ডিং রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর কাছে তুলে ধরবেন। সেই চাপের মুখে পড়ে রেল প্যান্টি কারের লোকজন বলেন, তাঁরা ভুল করে বেশি দাম নিয়েছেন। তালিকার দাম তাঁদের ঠিক ভাবে জানা ছিল না। এমনকি তাঁকে অতিরিক্ত টাকা ফেরতও দিয়ে দেওয়া হয়।

এর পর তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে গোটা ঘটনাটা লিখে পোস্ট করেন। আর দেখে কে? সঙ্গে সঙ্গে সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়।

পোস্টে নীলাভ লিখেছেন, “আমি নিউ তিনসুকিয়া রাজেন্দ্রনগর পটনা এক্সপ্রেস ট্রেন নম্বর ১৩২৮১-এ করে দুলিয়াজান থেকে ডিমাপুর যাচ্ছিলাম। আমার আর পরিবারের বার্থ কোচ নম্বর বি-১ আর ২-এ। যাওয়ার সময় ট্রেনের প্যান্ট্রিকার থেকে ২ প্লেট ডিম বিরিয়ানি কিনেছিলাম। যে বিক্রি করতে এসেছিল সে প্লেট পিছু ৮০ টাকা করে দাম নিয়েছিল। আমি তাকে তখন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই দাম কি মেনু কার্ডে ধার্য করা দাম অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে? সে তখন বলেছিল, একদম ধার্য দাম অনুযায়ীই দাম নেওয়া হচ্ছে। যদিও আমি তাতে নিশ্চিন্ত হয়নি, আমি তখন তাকে ১৬০ টাকা দাম মিটিয়ে দিই। কিন্তু পরে আমি প্যান্ট্রিভ্যানে যাই। সেখানে মেনু দেখতে চাই।… আজ আমি দুর্নীতি রুখতে একটা ছোট্টো পদক্ষেপ করেছি। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করছি, আপনাদের চারপাশে হওয়া এই সব অন্যায়কে অবহেলা করবেন না এবং চুপচাপ দেখবেন না। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন। অভিযোগ করার থেকে প্রতিরোধ করা ভালো।

‘করকে দেখো। আচ্ছা লাগতা হ্যাঁয়। জয় হিন্দ’ ”।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতেও একই ঘটনা ঘটেছিল। প্রতাপতা দাস, এক জন ফেসবুক ব্যবহারকারী। তিনি এক জন আইএএস অফিসার শিবেন্দ্র কে সিংহ-এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁর কাছ থেকেও এমন ভাবেই বেশি দাম নেয় খাবার সরবরাহকারী। তা সঙ্গে সঙ্গে আইআরসিটিসি দৃষ্টিগোচর হয়। আইআরসিটিসি রেলের যাত্রীদের সচেতন করে দেয়। জানায়, কোনো কিছু কেনার সময় তাঁরা যেন দামের ব্যাপারে সতর্ক থাকেন। যখন থেকে বেশির ভাগ ট্রেনেই প্যান্ট্রির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তখন থেকে প্রত্যেক ট্রেনের ওপরে আলাদা আলাদা ভাবে নজর রাখা আইআরসিটিসি-র পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইআরসিটিসি টুইট করে ট্রেনের খাবারের দামের তালিকা যাত্রীদের জানিয়ে দিয়েছে। তাতে করে যাত্রীরা যেন দাম দেওয়ার আগে তা মিলিয়ে নিতে পারেন, বা সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে পারেন।

যাই হোক এই বারে নীলাভ খানিকারের পোস্ট এই পর্যন্ত ৮০০০ বার শেয়ার হয়েছে। ৬ লক্ষ ২৩ হাজার ২৭৫ বার ভিউ হয়েছে। লাইক পেয়েছে কম করে ১৬ হাজার।

তাই —- ‘জাগো গ্রাহক জাগো’।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here