দিল্লির নিগমবোধ ঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল অরুণ জেটলির

0

ওয়েবডেস্ক: দিল্লির নিগমবোধ ঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অরুণ জেটলির। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর একে একে শ্মশান ছেড়ে যান উপস্থিত ব্যক্তিরা। তবে শেষ লগ্নে এসে বৃষ্টির কারণে সামান্য সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রয়াত মন্ত্রীর স্ত্রী এবং পুত্রের সঙ্গেই বিজেপি নেতৃত্ব-সহ অন্যান্যরা নিগমবোধ ঘাট থেকে বাড়িমুখো হন।

দুপুর দু’টো নাগাদ বিজেপির সদর দফতর থেকে দিল্লির নিগমবোধ ঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় জেটলির। বিজেপি দফতর থেকে আট কিমি দূরে যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত নিগমবোধঘাটে সমবেত হয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে সাধারণ মানুষ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন-সহ উপস্থিত ছিলেন বিজেপির উচ্চ নেতৃত্ব।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের অন্যতম প্রধান ‘রক্ষক’ অরুণ জেটলি দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে গত শনিবার ৬৬ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিল্লির এইমস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত ৬ আগস্ট মারা গিয়েছেন আর এক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তাঁর মৃত্যুর পরে অরুণের প্রস্থান ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে দ্বিতীয় হাই-প্রোফাইল ক্ষতি বলেই বর্ণনা করছে রাজনৈতিক মহল।

সুষমার মতোই আইনজীবী থেকে রাজনীতিকে পরিণত জেটলি সমস্ত দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আন্তরিক ভাবেই মিশতেন। তাঁদের ব্যবহারে ভিন দলের রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো বৈরিতার প্রকাশ দেখা যায়নি। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম মেয়াদে মন্ত্রী জেটলি অন্যতম কৌশলবিদ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয়বার কেন্দ্রে মোদী সরকার ফিরে আসার পর তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে স্বাস্থ্যজনিত কারণে অবসরের আর্জি জানিয়েছিলেন।

আনুষ্ঠানিক ভাবে পাঠানো সেই চিঠিতে জেটলি লিখেছিলেন, “অবসর নেওয়ার বিষয়টি আগেই মৌখিক ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। গত ১৮ মাস ধরে স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। এখন চিকিৎসার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। আপাতত আমাকে যেন নতুন করে কোনো দায়িত্ব দেওয়া না হয়”।

সবসময়ই বিজেপির প্রধান সমস্যা সমাধানকারীদের মধ্যে জেটলির নাম প্রথমেই উচ্চারিত হতো দলে অন্দরে। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক আইন পরিচালনা থেকে শুরু করে সরকারের পক্ষে বিতর্কিত বিধানগুলির আত্মরক্ষায় তাঁকেই দেখা যেত প্রথমের সারিতে।

শনিবার দুপুর ১২.০৭টা নাগাদ প্রয়াত হন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি। ওই দিন বিকেলেই এইমস থেকে তাঁর দেহ কৈলাশ কলোনিতে তাঁর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ তাঁ দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিজেপির সদর দফতরে। সেখানে তাঁর দেহ দুপুর ২টো পর্যন্ত শায়িত থাকবে। বিজেপি নেতা-কর্মী-সহ দেশের প্রথম সারির নেতামন্ত্রীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এর পর দুপুর ২টোর পর তাঁর জেটলির দেহ বিজেপির সদর দফতর থেকে নিয়ে যাওয়া হবে নিগমবোধ ঘাটে। সেখানেই বিকেল ৪টে নাগাদ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে অরুণ জেটলির।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.