পণের জন্য টাকা না জমিয়ে মেয়েকে আইআইটিতে পাঠানোই সবচেয়ে বড় ভুল, বললেন আত্মঘাতী ছাত্রীর বাবা

0
4718

নয়াদিল্লি: মেয়েকে পড়িয়ে, আইআইটিতে পাঠিয়ে সব চেয়ে বড় ভুল করেছেন তিনি। তা না করে যদি পণের জন্য টাকা জমাতেন তা হলে বোধহয় মেয়েটা বেঁচে যেত। এইমসের মর্গে মেয়ের দেহ নিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন মৃত দিল্লি আইআইটির ছাত্রী মঞ্জুলা দেবকের বাবা মনোজকুমার দেবক।

বুধবার দিল্লি আইআইটি ক্যাম্পাসের নালন্দা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয় রিসার্চ স্কলার মঞ্জুলা দেবকের (২৮) মৃতদেহ। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। কিন্তু কেন আত্মহত্যা করলেন মঞ্জুলা, তার উত্তর নিয়ে বেশ ধন্দ থেকে যায়। কারণ, কোনো সুইসাইড নোট মেলেনি।

সোমবার বিকালে তাঁকে শেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। রবিবার মায়ের সঙ্গে কথাও বলেন ফোনে। তার পর থেকে ফোনটি বন্ধ ছিল। মনোজকুমার জানিয়েছেন, ‘‘ফোনে ছুটিতে বাড়ি আসবে বলেও জানিয়েছিল। কিন্তু ওর কথা থেকে আমরা একবর্ণও বুঝতে পারিনি যে সে এই চরম পদক্ষেপ করতে যাচ্ছিল।’’

‘দু’জনের কুষ্ঠি খুব সুন্দরভাবে মিলে গিয়েছিল বলে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছিলাম মেয়ের, জানিয়েছেন মঞ্জুলার বাবা। কুষ্ঠি মিললেও মিলল না জীবনের হিসাব।

মঞ্জুলার মৃত্যুর জন্য তাঁর বাবা-মা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন শ্বশুরবাড়ির দিকে। বিয়ের পর থেকে তাঁর উপর অত্যাচার চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। গত কয়েক দিন ধরে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা চাইছিল মঞ্জুলার স্বামী রীতেশ, জানিয়েছেন মৃতের বাবা।

২০১৩ দেখেশুনে বিয়ে হয় দু’জনের। ‘দু’জনের কুষ্ঠি খুব সুন্দরভাবে মিলে গিয়েছিল বলে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছিলাম মেয়ের’, জানিয়েছেন মঞ্জুলার বাবা। কুষ্ঠি মিললেও মিলল না জীবনের হিসাব।

তাঁর মা সীমা জানিয়েছেন, পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে তার সঙ্গে ব্যবসা শুরু করতে মঞ্জুলাকে জোর করছিল রীতেশ। দিল্লি এবং মুম্বইয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে গত এক বছর ধরে তাঁর সঙ্গে ক্যাম্পাসেই থাকতে শুরু করেছিল রীতেশ।

সীমা জানিয়েছেন, “আমরা বলেছিলাম ডির্ভোস দিয়ে দিতে, কিন্তু পরিবারের সম্মানহানি হবে ভেবে সে সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রেখেছিল।”

মঞ্জুলা ২০১১ সালে দিল্লি আইআইটিতে যোগ দেন এবং এমটেক (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) করেন। বর্তমানে তিনি রিসার্চ করছিলেন।

মঞ্জুলার আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, পড়াশোনার ক্ষেত্রে মানসিক চাপের জন্য তিনি আত্মহত্যা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মঞ্জুলরা এক সহকর্মী এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ‘‘তার গাইড তার কাজ নিয়ে যথেষ্ট খুশি। স্ট্রেস থাকলেও সে যথেষ্ট ভালো কাজ করছিল।’’

পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। মঞ্জুলরা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here