minor

নয়াদিল্লি : একবছর আগে বন্ধুত্ব হয়েছিল সতের বছরের একটি ছেলের সঙ্গে। ছেলেটি তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। তারই হাত ধরে দিনাজপুরের বাসিন্দা ১৫ বছরে সীমা (নাম পরিবর্তিত) পালিয়ে এসেছিল ফরিদাবাদে ছেলেটির কাকার বাড়ি।

সীমা জানিয়েছে, ‘‘ আমাকে দক্ষিণপূর্ব দিল্লির গোবিন্দপুরিতে নিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল রবি (নাম পরিবর্তিত)। কিন্তু শুক্রবার রবির অনুপস্থিতিতে সীমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তার কাকা। কোনোক্রমে নিজেকে বাঁচিয়ে নিকটবর্তী একটি গেট দেওয়া একটি কলোনিতে ঢুকে পড়ে। রাতটা সে অশোকা এনক্লেভ পার্ট থ্রির মার্কেটে কাটায়। শনিবার ভোরের আলো ফুটেতই সে কনিষ্ক রেসিডেন্সি পৌঁছয়। সেখানকার নিরাপত্তাকর্মী তাকে একটি কম্বল দেয়।

পুরো ঘটনাটি তার কাছে শোনার পর নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি পুলিশকে জানায়। সারাই খাওয়াজের পুলিশ আধিকারিক ওই নিরাপত্তারক্ষীকে বলেন, মেয়েটিকে কলোনির বাইরে বার করে দিতে।

কলোনির বাসিন্দারা ঘটনাটি জানতে পেরে নিরাপত্তারক্ষী রামায়ণ গুপ্তাকে বলে যে ছেলেটি তাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘ফুঁসলিয়ে’ এনেছে ই-রিক্সা ভাড়া করে সেই ছেলেটিকে খুঁজে আনতে।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজির পর তাকে রবিকে ধরে আনে ওই নিরাপত্তারক্ষী। সীমাই ছেলেটিকে চিনিয়ে দেয়। দু’জনকে ফের কনিষ্ক রেসিডেন্সতে ফিরিয়ে আনা হয়।

দুপুর দেড়টা নাগাদ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শক্তিবাহিনীর হাতে দু’জনকে তুলে দেওয়া হয়। শক্তিবাহিনী মেয়েটিকে ফরিদাবাদের শিশু কল্যাণ সমিতির হাতে তুলে দেয়। এরপর পুলিশ বাধ্য হয় গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করতে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে ছেলেটি আগেও একটি বিয়ে করে। সীমার পরিবার এ রাজ্যে ছেলেটির বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করেছে।

শক্তিবাহিনীর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঋষিকান্ত জানিয়েছেন, ‘‘ এই ঘটনার পিছনে পাচারের উদ্দেশ্যকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সাধারত এভাবে ছেলেরা মেয়েদেরকে পচার করার জন্য দিল্লিতে আনে। তবে ছেলেটির সঙ্গে পাচারকারীদের সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই।’’ ঘটনার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও ফরিদাবাদের রওনা হয়েছে যেহেতু ছেলেটির নাম এফআইআর-এ রয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন