বেঙ্গালুরু: দেশ জুড়ে কৃষকদের আত্মহত্যার পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণের সন্ধান পেয়েছেন ‘আর্ট অব লিভিং’ খ্যাত রবিশংকর। সেই কারণটি হল আধ্যাত্মিকতার অভাব। কৃষক-আত্মহত্যা বন্ধের দাওয়াই হিসাবে যোগ ও প্রাণায়াম করার কথা বলেছেন তিনি। দিল্লিতে যমুনা দূষণের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, সে সম্পর্কে রবিশংকরের পালটা অভিযোগ, এ নিয়ে ‘আর্ট অব লিভিং’-এর বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার’ চলছে।

সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের খবর, সাংবাদিক রবিশংকর বলেন, “আমরা বিদর্ভ অঞ্চলে ৫১২ গ্রামে পদযাত্রা করেছি। এবং তার ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি কৃষকদের আত্মহত্যার পিছনে দারিদ্র্যই একমাত্র কারণ নয়। ওঁদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার অভাব রয়েছে। তাই যাঁরা আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে জড়িত তাঁদের কাছে আমার আবেদন, আপনারা কৃষকদের কাছে যান।” কী করে এই সমস্যা মেটানো যায়, জানতে চাওয়া হলে  রবিশংকর বলেন, “যোগ ও প্রাণায়াম করলে কৃষকদের আত্মহত্যার প্রবণতা কমবে।”

দিল্লিতে যমুনা-তীরবর্তী এলাকা দূষিত করার দায়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে অভিযুক্ত রবিশংকর ও তাঁর ‘আর্ট অব লিভিং’। অভিযোগ, ২০১৬-এর মার্চে বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে যমুনা-তীরবর্তী এলাকার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছিল রবিশংকরের সংগঠন। রবিশংকর কিন্তু বুঝতে পারছেন না, ওই অনুষ্ঠান নিয়ে কেন এত হইচই হচ্ছে। “যে অনুষ্ঠানের সঙ্গে সারা পৃথিবীর ১৮০ কোটি লোক, অর্থাৎ জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ জড়িত, যেখানে এক মঞ্চে আড়াই হাজার ধর্মীয় নেতা জড়ো হন, সেই ঐতিহাসিক উৎসব নিয়ে কেন এত হইচই?” প্রশ্ন তাঁর। তাঁর দাবি, তাঁদের ১৫ নিরপেক্ষ বিজ্ঞানীর এক প্যানেল ওই অনুষ্ঠান সম্পর্কে ভালো রিপোর্ট দিয়েছে। দেশের বিচারব্যবস্থায় তাঁর পূর্ণ আস্থা আছে, এ কথা জানিয়ে রবিশংকর বলেছেন, তাঁর ‘আর্ট অব লিভিং’-এর বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার’ চলছে।

উল্লেখ্য, যমুনা দূষণ নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জন্য রবিশংকরের কাছে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছে আদালত। পরিবেশ আদালতের রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘আর্ট অব লিভিং’ যমুনা-তীরবর্তী এলাকার যে ক্ষতি করেছে টাকার মূল্যে তার পরিমাণ ৫ কোটি। কিন্তু আদালত তাদের ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন