goalpara detention camp
গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্প। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: জামিনের দাবিতে গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে ‘ডি’ ভোটাররা আমরণ অনশন করছেন। এঁদের অনশন শুক্রবার আট দিনে পড়ল। ইতিমধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের মুখে কুলুপ। কর্তাব্যক্তিদের কেউই কিছু বলছেন না।

জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) রূপায়ণের ফলে অসমের হিন্দু-মুসলিম সম্প্ৰদায়ের বাংলাভাষী মানুষজন সব থেকে বেশি বিপদের মধ্যে পড়েছেন। নানা ভাবে তাঁদের প্ৰশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সব থেকে করুণ অবস্থা ‘ডি’ ভোটারদের। এনআরসি থেকে বাদ পড়া ৪০ লক্ষ ৭ হাজার ৭০৭ জন মানুষের মধ্যে ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ‘ডি’ ভোটারকে ‘হোল্ড’ করে রেখে সব অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থে সৰ্ব মোট ১ লক্ষ ২৬ হাজার ‘ডি’ ভোটার। কিন্তু পরিবারের একজন সদস্যের ‘ডি’ ভোটারের তকমা থাকলেই পরিবারের সকলকেই ‘ডি’ ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করে সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই ভোটারদের ‘ডাউটফুল/ডিসপিউটেড’ তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছে। এই হিন্দু-মুসলিম সংখ্যালঘু ‘ডি’ ভোটারদের মধ্যে ৬টি কারাগারে প্ৰায় এক হাজার জনকে আটকে রাখা হয়েছে। এঁদের মধ্যে অধিকাংশেরই ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথিপত্ৰ আছে। তিন তিন বারের মুখ্যমন্ত্ৰী তরুণ গগৈ বারবার বলেছেন, ‘ডি’ ভোটারদের ৯০-৯৫ শতাংশ ভারতীয় নাগরিক।

আরও পড়ুন আসামের বাঙালিদের সামনে এখন দুর্যোগের ঘনঘটা

নিম্ন অসমের গোয়ালপাড়া কারাগারে শতাধিক ‘ডি’ ভোটার জামিনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। গত ২৪ আগস্ট থেকে ২৭ জন পুরুষ আমরণ অনশনে বসেছেন। জেলা প্ৰশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যৰ্থ, সবাই মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন। গোয়ালপাড়ার সাংবাদিক বিক্ৰম সরকার এই প্ৰতিবেদককে জানান, আমরণ অনশনের ফলে অধিকাংশের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। কারাগারের চিকিৎসকরা গোয়ালপাড়ার সিভিল হাসপাতালের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আটকাধীন ব্যক্তিদের অবস্থা খুব খারাপ।ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনরা বাড়ি থেকে পোশাকপরিচ্ছদ ও অন্যান্য সামগ্ৰী এনে তাঁদের দেন।

এই গোয়ালপাড়া জেলাতেই ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির জন্য কেন্দ্ৰীয় সরকার ৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আশি বিঘা জমিতে এই ক্যাম্প তৈরি হবে। ক্যাম্পের জন্য এখন জমি খোঁজা হচ্ছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন