লখনউ : শিশুকন্যা হত্যার ঘটনা আকছারই ঘটে চলেছে যত্রতত্র। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার কথা সামনে এসেছিল। জানা গিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের কাছে মা ও তার চার মেয়েকে চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। তাতে মারা গিয়েছিল মা ও এক মেয়ে। এই ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছিল ৯ বছরের আলগুনা। যাদের ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সে-ও এক জন। তার তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ তাদের কাকা আর তার এক বন্ধুকে গ্রেফতার করে। তাদের বাবা ইদ্দুর খোঁজ চলছিল।

কিন্তু প্রতি দিনই এই ঘটনার তদন্ত নতুন মোড় নিচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে শিশুদের মা আফরিনা খাতুন (৩৬ বছর) বেঁচে আছেন। তিনি তাঁর মেয়ে আলগুনাকে নিয়ে সীতাপুর হাসপাতালের সাত নম্বর বেডে রয়েছেন। আলগুনা আর আফরিনার বয়ান আলাদা আলাদা ভাবে রেকর্ড করেছে পুলিশ। আফরিনা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী ইদ্দু মিঞা (৪২ বছর) মেয়েদের ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছিল।

আফরিনা বলেন, দিনটা ছিল ২৩ অক্টোবর। মাঝরাত। কামাক্ষা-কাটরা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে যাওয়ার সময় তিনি তাঁদের ছোটো মেয়ে শেহজাদিকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সেই সময়ই ইদ্দু চার মেয়ে আলগুনা (৯ বছর), রাবিয়া (১২ বছর), মুনিয়া (৭ বছর) আর ৪ বছরের সামিনাকে ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়। হঠাৎ ঘুম ভেঙে তাদের দেখতে না পেয়ে জানতে চাইলে, ইদ্দু বলে ৫টা মেয়েকে বড়ো করা, বিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। তাই ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছে।

লখনউ থেকে ৯০ কিমি দূরে সীতাপুরের কাছে ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলার এই ঘটনা ঘটে। লখিমপুরের কাছে মাইওগলগঞ্জের কাছে রেললাইনে একটি দেহ পাওয়া যায়। সেই দেহ তার নায়ের বলে শনাক্ত করে আলগুনা। কিন্তু ঘটনার পাঁচ দিন পর আফরিনা তাঁর ছোটো মেয়ে শেহজাদিকে নিয়ে বিহারের পশ্চিম চম্পারন জেলার গ্রামে তাঁর মা রাবিনা খাতুনের (৬৭) হাজির হন। মেয়ের কাছে সব খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে সীতাপুর রওনা হন রাবিনা।

আফরিনা বলেন, সে রাতে ইদ্দু বলেছিল বেশি হইচই করলে তাদেরও ট্রেন থেকে ফেলে দেবে। তার পর কোনো মতে প্রাণ হাতে নিয়ে ছোটো মেয়েকে সঙ্গে করে বিহারে মায়ের কাছে পালিয়ে এসেছেন তিনি।  কোনো দিনই ইদ্দু তাঁদের প্রতি কর্তব্য পালন করেনি।

আফরিনা জানান, তিনি মেয়েদের নিয়ে মা রাবিনার কাছেই থাকতেন। ইদ্দু জম্মুতে শ্রমিকের কাজ করে। এই বার তাদের জোর করে নিয়ে যাচ্ছিল সেখানে। তারা যেতে চায়নি।

সীতাপুর জেলা হাসপাতালে রয়েছেন আফরিনা আর তার মেয়েরা। আফরীনা বলে, তার জন্যই মেয়েদের এই দশা। কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার মূল্য সে এই ভাবে চোকাল। এক জন তো মরেই গেল।

পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখে ইদ্দুর সন্ধান করা হচ্ছে। শেষ সন্ধান পাওয়া গেছে জম্মুতে। কিন্তু সেই অনুযায়ী ইদ্দুর বাসস্থান আর কাজের জায়গায় খোঁজ চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here