ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জিএসটি নিয়ে কোনো বৈষম্য করা হয়নি, স্পষ্ট বলল অর্থ মন্ত্রক

0
311

নয়াদিল্লি: পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালু হওয়ার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তা হল মন্দিরগুলিকে জিএসটির আওতায় নিয়ে আসা হলেও, ছাড় দেওয়া হয়েছে মসজিদ এবং গির্জাকে। এই অভিযোগকে সরাসরি খণ্ডন করেছে কেন্দ্র। তারা জানিয়ে দিয়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে করের ব্যাপারে কোনো বৈষম্য করা হয়নি।

প্রসঙ্গত জিএসটি শুরু হওয়ার পর থেকেই অন্ধ্র প্রদেশ এবং তেলঙ্গানার অনেক মন্দিরই এই করের আওতায় চলে এসেছে। তেলঙ্গানার ১৪৯টি মন্দিরকে জিএসটির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই মন্দিরগুলির বার্ষিক আয় কুড়ি লক্ষ টাকার বেশি।

অর্থ, সম্পত্তি, বৃত্তি ইত্যাদি দান সংক্রান্ত তেলঙ্গানার মন্ত্রী ইন্দ্রকরণ রেড্ডী বলেন, যে ১৪৯টি মন্দির জিএসটির আওতায় এসেছে তার মধ্যে ষোলোটি মন্দিরের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার বেশি এবং তিনটে মন্দিরের আয় ২৫ লক্ষ টাকার বেশি। কোন পরিষেবায় কত হারে কর নেওয়া হবে সেটা এখনও পরিষ্কার করে জানানো হয়নি। তবে জিএসটি আইনের ৭৩ নম্বর ধারায় বলে হয়েছে মন্দিরের বিশ্রামাগারে এক হাজার টাকার বেশি ঘরভাড়া, দিনপ্রতি দশ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যে মন্দির চত্বর, কমিউনিটি হল এবং কল্যাণমণ্ডপ ভাড়া দেওয়া হলে তার ওপর ১৮ শতাংশ হারে কর নেওয়া হবে।

মন্দিরের প্রবেশ মূল্যের ওপর কর বসানো হবে কি না জানানো না হলেও, মন্দিরগুলির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন আধিকারিকের মতে জিএসটির ফলে দাম বাড়তে পারে প্রসাদের। কারণ প্রসাদ তৈরির দুটি মূল সামগ্রী কাজুবাদাম এবং ঘি-এর ওপর কর বসিয়েছে কেন্দ্র। কাজুবাদাম এসেছে পাঁচ শতাংশ করের আওতায় এবং ঘি এসেছে ১২ শতাংশের আওতায়। প্রসাদ বিক্রি, অর্গিতসেবা, হুন্ডি থেকেই আয় হয় মন্দিরের। অর্গিতসেবা বা হুন্ডি ওপর কোনো কর বসানো হবে কি না, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।

তেলঙ্গানার পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশের ১৭১টি মন্দির এসেছে জিএসটির আওতায়। পড়শি রাজ্যের মতো এই মন্দিরগুলির বার্ষিক আয়ও কুড়ি লক্ষ টাকার বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশে মন্দির রয়েছে ২৩,৮৩৪টি। এর মধ্যে এক কোটির কাছাকাছি বার্ষিক আয় হয় ৪৫টি মন্দিরের, ৬৩ মন্দিরের বার্ষিক আয় হয় এক থেকে ২৫ কোটি টাকার মধ্যে এবং দেশের সব থেকে ধনী মন্দির, তিরুপতি মন্দির-সহ সাতটি মন্দিরের আয় ২৫ কোটি টাকারও বেশি।

স্বভাবতই মন্দিরের ওপর জিএসটি চালু হওয়ার পরেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে বেছে বেছে হিন্দু ধর্মস্থানের ওপরেই কর বসিয়েছে সরকার। তবে এই অভিযোগ নস্যাৎ করেছে অর্থমন্ত্রক। একটি বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে মন্দিরগুলিকে জিএসটির আওতায় আনা হলেও মসজিদ এবং গির্জাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অসত্য, কারণ কর নেওয়ার ক্ষেত্রে জিএসটি আইনের কোনো ধারায় ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের ভুল বার্তা না ছড়াতে আমরা জনসাধারণকে অনুরোধ করছি।”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here