প্রহারে মৃত আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধেই গোহত্যার অভিযোগে এফআইআরের নির্দেশ

0

খবর অনলাইন: বাড়িতে গরুর মাংস লুকিয়ে রাখার গুজব ছড়িয়ে গত বছর উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে যে ব্যক্তিকে গ্রামবাসীরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল, সেই মহম্মদ আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধেই এ বার এফআইআর করার নির্দেশ দিল আদালত।

১৯৫৫ সালের উত্তরপ্রদেশ গরু সুরক্ষা আইন অনুসারে গ্রেটার নয়ডা পুলিশকে  মহম্মদ আখলাক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গোহত্যার অভিযোগে এফআইআর করা এবং সেই এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত করার নির্দেশ দিল সুরজপুরের স্থানীয় আদালত। দাদরির বিসাডা গ্রামে আখলাকদের প্রতিবেশী সুরজপাল সিং-এর করা এক আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে ওই আদালত। আখলাক-হত্যায় অভিযুক্তদের সমর্থন রয়েছে ওই আবেদনে।

আবেদনকারী দাবি করেছেন, ২৬ সেপ্টেম্বর আখলাক ও তাঁর ছেলেকে তিনি দেখেন একটি বাছুরকে মারধর করতে। তাঁকে বলা হয়, বাছুরটা মানুষ দেখে তেড়ে যাচ্ছে। আবেদনে বলা হয়েছে, পরে এক গ্রামবাসী দেখেন আখলাক বাছুরটিকে ধরে আছেন আর তাঁর ভাই সেটিকে মেরে ফেলেছে।

দু’ দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর আখলাককে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় এবং তাঁর ছেলে দানিশকেও মারাত্মক ভাবে জখম করা হয়। এই ঘটনার পরেই আতংকিত পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে যায় এবং আখলাকের বড়ো ছেলের কাছে থাকতে শুরু করে। কর্মসূত্রে সেই ছেলে বিমানবাহিনীর টেকনিশিয়ান।  ঘটনার পরে আখলাকের বাড়িতে রাখা মাংস ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয় এবং জানা যায়, মাংসের যে নমুনা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে তা গোমাংস নয়, ছাগলের।

কিন্তু গত জুনে উত্তরপ্রদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ভেটেরিনারি সায়েন্সেস অ্যান্ড অ্যানিমল হাসব্যান্ড্রি-র ক্যাবে ফের মাংসের নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্টে বলা হয়, আখলাকের বাড়িতে পাওয়া মাংস গোমাংস বা সেই ধরনের।

এই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিসাডা গ্রামে মহাপঞ্চায়েত ডাকা হয় এবং আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়। সেই পঞ্চায়েতে যোগ দিয়েছিলেন আখলাক হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত বিশাল রানার বাবা স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় রানা। ওই পঞ্চায়েতেই আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবি তোলা হয়। তারই ফলশ্রুতি, ওই ব্যবস্থা চেয়ে স্থানীয় আদালতে মামলা।

কিন্তু মজার কথা হল, যে রিপোর্টের ভিত্তিতে আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে, সেই রিপোর্ট যে মাংসের নমুনা পরীক্ষা করে তৈরি করা হয়েছে, সেই মাংস আখলাকের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা নয়। পুলিশের রিকভারি মেমো থেকে জানা যাচ্ছে, আখলাককে পিটিয়ে মারার জন্য জনতা বিসাডা গ্রামের যেখানে জড়ো হয়েছিল তারই কাছাকাছি একটি ডাস্টবিন থেকে ওই নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

মহম্মদ আখলাকের ভাই জান মহম্মদ বলেছেন, তাঁরা তদন্তের জন্য প্রস্তুত।

উত্তরপ্রদেশে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু গরু জবাই করার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের জেল হতে পারে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন