mumbai fire

ওয়েবডেস্ক: অতিরিক্ত লোভ আর নিরাপত্তাহীনতাই কি ১৪ জন নির্দোষের প্রাণ নিল মুম্বইয়ের কমলা মিল অগ্নিকাণ্ডে?

প্রশ্নটা অগ্নিকাণ্ডের খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই এসেছে সবার মাথায়। শিব সেনা প্রধান আদিত্য ঠাকরে এবং শিব সেনা আইনজীবী সুনীল শিন্দে সরাসরি ওয়ান অ্যাবাভ রেস্তোরাঁ মালিকদেরই দায়ী করেছেন দুর্ঘটনার জন্য। আর এবার মুম্বই পুলিশও সেই পথে হেঁটে এফআইআর দাখিল করল তিন রেস্তোরাঁ-মালিক এবং তার ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ৩০৪ নম্বর ধারা (ইচ্ছাকৃত না হলেও হত্যার নিন্দনীয় কারণ), ৩৩৭ নম্বর ধারা (অন্যের প্রাণকে ঝুঁকিতে ফেলা), ৩৩৮ নম্বর ধারা (লোভ যখন অন্যের প্রাণহানির কারণ হয়) অনুসারে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে রেস্তোরাঁ-মালিক কৃপেশ সীংভি, জিগর সাংভি এবং অজয় মানকরের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: জন্মদিনেই আগুনে শেষ জীবনগাথা, দেখুন কমলা মিল দুর্ঘটনায় প্রয়াত খুশবুর জন্মদিনের ভিডিও

মুম্বইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস জয়কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে যে ওই রেস্তোরাঁয় অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। শুধু তা-ই নয়, পাশাপাশি অতিরিক্ত চেয়ার-চেবিল বসিয়ে এমার্জেন্সি এক্সিটের মুখটাও সঙ্কীর্ণ করে রাখা হয়েছিল। ফলে মনে হয়, রেস্তোরাঁ-মালিকদের গাফিলতিই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী! তবে যতক্ষণ না দমকল কোনো রিপোর্ট দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। যদিও ওই রেস্তোরাঁ-মালিকরা ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। তা বলে আমরা হাল ছাড়ছি না। বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে ওঁদের খুঁজে বের করার জন্যে। এমনকী, বিমানবন্দরেও আমরা নদরদারি চালাচ্ছি, বলছেন জয়কুমার।

আরও পড়ুন: মুম্বইয়ের ওই রেস্তরাঁয় তিন দিন আগেই গিয়েছিল বাবুল সুপ্রিয়র মেয়ে

এক দিকে যেমন মানুষের অতিরিক্ত লোভ অন্য মানুষের প্রাণহানির কারণ হিসাবে উঠে আসছে মুম্বই কমলা মিল অগ্নিকাণ্ডে, তেমনই আবার অন্য দিকে দুই সাহসী যুবকের পরোপকারিতার খবরও ছড়িয়ে পড়েছে সংবাদমাধ্যমে। ওই রেস্তোরাঁর পার্শ্ববর্তী এক সংবাদমাধ্যমের কর্মী মহেশ আর সুরজ গিরি নিজেদের প্রাণ বিপন্ন করে বাঁচিয়েছেন ৫০ জনকে, এমনটাই দাবি করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, মহেশ আর সুরজ ওই এলাকার একটি সংবাদমাধ্যমের দফতরের সম্প্রচারকর্মী। যখন আগুন লাগে, তখন তাঁরা ছিলেন টয়লেটে। সেখান থেকেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখেই তাঁরা কর্তব্য ঠিক করে নিতে দ্বিধা করেননি। দমকল পৌঁছনোর আগেই তাঁরা পাইপ বেয়ে উঠে যান রেস্তোরাঁর ছাদে। তার পর ভেঙে ফেলেন এমার্জেন্সি এক্সিটের দরজা। জামা খুলে তা দিয়ে মুখ ঢেকে এক দিকে ধোঁয়ার মোকাবিলা করতে থাকেন তাঁরা, অন্য দিকে আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে থাকেন রেস্তোরাঁর গ্রাহকদের। উপরের ভিডিওয় ক্লিক করে শুনে নিন তাঁদের বক্তব্য!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here