নয়াদিল্লি: দিল্লির একটি বিলাসবহুল হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে মৃত্যু হল কমপক্ষে ১৭ জনের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ভোর চারটে নাগাদ হোটেলটিতে আগুন যখন লাগে, অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমোচ্ছিলেন। ফলে মৃতের সংখ্যা এতটা বেশি। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় দমকলের ২৪টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার কাজ এখনও চলছে।

আগুন লেগেছে টের পেয়ে আবাসিকরা যখন বাঁচার চেষ্টা করতে শুরু করেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। করিডরে বেরিয়ে আসতে গিয়ে আরও বিপত্তি। কাঠের প্যানেল দিয়ে তৈরি করিডর তখন দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফলে বেশির ভাগ আবাসিকই বেরোতে পারেননি।

কার্যত দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে সবার। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা এবং এক শিশুও রয়েছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ভিডিও-তে ধরা পড়েছে এ রকম মর্মান্তিক ছবি। ছাদে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে আর ছাদের রেলিং ধরে ঝুলে রয়েছেন এক ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পরে তাঁর হাত রেলিংছাড়া হয়ে যায়। ওই ব্যক্তি কেমন রয়েছেন তা অবশ্য জানা যায়নি।

দমকল সূত্রে খবর, দিল্লির পাঁচতলা ওই হোটেলে ঘরের সংখ্যা ৬৫। দুর্ঘটনার সময় ১৫০ জন আবাসিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মায়ানমার থেকে আসা বেশ কিছু পর্যটক ছিলেন। একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তাঁরা হেটেলের ৩৫টি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। আগুন প্রথমে লাগে পাঁচতলাতেই। হোটেল জুড়ে প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় এবং হোটেলের করিডর, ঘরের মধ্যে কাঠের প্যানেল লাগানো থাকায় পাঁচতলা থেকে খুব দ্রুত আগুন অন্যান্য তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দমকল।

আরও পড়ুন পারদে পশ্চিমাঞ্চলকে হারিয়ে দিল উপকূল, সপ্তাহান্তে বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রাথমিক ভাবে দমকলের অনুমান, পাঁচতলায় শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল।

দিল্লির পূর্তমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেন, ‘‘পাঁচতলা পর্যন্ত হোটেলের অনুমোদন ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বেআইনি ভাবে ছাদে রান্নাঘর বানিয়েছে। যা চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রমাণ।”

এই গাফিলতির জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষের ওপরে বিপদের ফাঁড়া নেমে আসবে সেটা এক প্রকার নিশ্চিত করে দিয়েছেন পূর্তমন্ত্রী।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here