নয়াদিল্লি: এই প্রথম কলকাতা থেকে জলপথে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম হয়ে স্থলপথে ত্রিপুরার আগরতলায় পৌঁছোল পণ্য।

বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনাকে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসাবে উল্লেখ করে জানায়, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বে আজকের ঘটনা ইতিহাস হয়ে থাকবে”।

Loading videos...

মন্ত্রক জানায়, এই পরিকল্পনাটি বাংলাদেশের (Bangladesh) মাধ্যমে ভারতের (India) পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য চট্টগ্রাম (Chattogram) এবং মংলা (Mongla) বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত একটি চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মান্ডভ্য (Mansukh Mandaviya) গত সপ্তাহে পতাকা নাড়িয়ে প্রথম পরীক্ষামূলক পণ্যবাহী জাহাজটির যাত্রার সূচনা করেন। কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করে সেই জাহাজটিই বাংলাদেশের চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সেখান থেকে স্থলপথে কন্টেনারগুলি আগরতলায় পৌঁছেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “এই পদক্ষেপ উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে শরিক হবে”।

সাংবাদিক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এই উদ্যোগ। দু’দেশের সাধারণ মানুষকে সুবিধা পৌঁছে দিতে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ফলেই এই সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। আজকের দিনে আমরা ভারত-বাংলাদেশ সামুদ্রিক এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করলাম। কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে সফল ভাবেই পণ্যগুলি আগরতলায় পৌঁছেছে”।

শ্রীবাস্তব বলেন, “এ দিন সকালে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব পণ্যবাহী কন্টেনারগুলি গ্রহণ করেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহণে এতদিন যে সময় লেগে যেত, তা এখন অনেকটাই কমবে। যার ফলে ব্যবসায়িক পরিষেবাকে উন্নত করার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের পরিমাণও বাড়াবে”।

প্রথমবারের পরীক্ষামূলক পরিবহণ

প্রথমবারের এই পরীক্ষামূলক পরিবহণে চারটি কন্টেনার পাঠিয়েছে ভারত। যেগুলির মধ্যে দু’টি কন্টেনারে রয়েছে ডাল এবং বাকি দু’টিতে রড। কলকাতা থেকে যাত্রা শুরুর পর পণ্যবাহী জাহাজটি পৌঁছোয় চট্টগ্রামে। সেখানে সড়কপথে আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে গন্তব্যে পৌঁছোয় কন্টেনারগুলি।

যাত্রা শুরুর সময় কলকাতা বন্দরে উপস্থিত ছিলেন জাহাজমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য এবং কলকাতা বন্দরের চেয়ারম্যান বিনীত কুমার প্রমুখ।

চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের মধ্যে কলকাতা বন্দরের সঙ্গে নিয়মিত তিনটি জাহাজ চলাচল করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বের উদ্দেশে এই প্রথম কোনো জলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিহণ শুরু হল”।

চট্টগ্রাম থেকে আগরতলার দূরত্ব মাত্র দু’শো কিমি। বাংলাদেশ সরকার বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় কম খরচের পাশাপাশি কম সময়ের মধ্যেও উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.