খবরঅনলাইন ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) চামোলি (Chamoli) জেলার রেইনি গ্রামে (Reini village) হিমবাহ ভেঙে (glacier burst) ব্যাপক তুষারধসের ফলে ঋষিগঙ্গায় আচমকা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর জেরে ধৌলিগঙ্গায় (Dhauliganga) নির্মীয়মাণ তপোবন-বিষ্ণুগাড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের (Tapovan-Vishnugad hydel project) ড্যাম ও অফিস-সহ অনেকটাই কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে।

প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এনটিপিসি (NTPC) পরিচালিত ৫২০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এখনও পর্যন্ত যতটুকু নির্মাণকাজ হয়েছে, তার প্রায় ৬০ শতাংশ একেবারে ভেসে গিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ড্যাম ও অফিস বাবদ ক্ষতির পরিমাণ ৪৫০ কোটি টাকা।

কোম্পানির আধিকারিকরা বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে এবং সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ দিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নামার জন্য একদল একজিকিউটিভকে নিয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান গুরদীপ সিং প্রকল্প-স্থলে আসছেন।

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের ৭০ শতাংশের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। যতটুকু খবর পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে অনুমান নির্মিত কাজের অন্তত ৬০-৭০% ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

দ্বিতীয় বার আঘাত

এই নিয়ে দ্বিতীয় বার আঘাত এই সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে। ২০১৩-এর কেদারনাথ বিপর্যয়ের ফলস্বরূপ যে আচমকা বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল, তাতেও এই প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এ বার জোশিমঠের কাছে রেইনি গ্রামে হিমবাহ ধসে ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি হয়। জল, বরফ, কাদা ও পাথরের ওই বন্যা ধৌলিগঙ্গার প্রধান উপনদী ঋষিগঙ্গাকে (RIshiganga) ভাসিয়ে হু হু করে নেমে আসে। পথে ১৩ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন একটি বেসরকারি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ফালা ফালা করে কেটে বেরিয়ে যায়।

তার পর জল-বরফ-কাদা-পাথরের স্তূপীকৃত সেই রাশি নেমে আসে তপোবন-বিষ্ণুগাড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এবং তা ২৫০ মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের ১৫০ মিটার পর্যন্ত ঢুকে যায়। ফলে সেখানে ৪০ কর্মী আটকা পড়েন বলে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত জানিয়েছেন।

প্রকল্প পিছিয়ে গিয়েছে ৮ বছরেরও বেশি

এখানে টানেল খোঁড়ার সময় ঘটে যাওয়া নানা ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়কর ঘটনা এবং ২০১৩ বিপর্যয়ের জেরে তপোবন-বিষ্ণুগাড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ আট বছরেরও বেশি পিছিয়ে গিয়েছে। এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০০৬-এর নভেম্বরে। ২০১২-এর সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্পের চারটি ইউনিট চালু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

খবর পাওয়া গিয়েছে, এই আচমকা বন্যার ফলে টিএইচডিসি-র ৪৪৪ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন পিপলকোটি প্রকল্প এবং জেপি গ্রুপের ৪০০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন বিষ্ণুপ্রয়াগ প্রকল্পেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জোশিমঠের ধৌলিগঙ্গা ও অলকানন্দা সঙ্গমের আরও ১১ কিমি ওপরে তপোবন গ্রামের কাছে নির্মিত হচ্ছে তপোবন-বিষ্ণুগাড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। আর ব্যারেজটির স্থান হল জোশিমঠ থেকে ১৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে জোশিমঠ-মালারি রাস্তার পাশে।

আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডের তুষারধসে ইতিমধ্যেই ১০০-১৫০ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা, জানালেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যসচিব

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন