ভয়াবহ বন্যার জের: জনপ্রিয় পর্যটনস্থলের সৌধগুলি জলের তলায়, উদ্ধার করা হল ৫০০ পর্যটককে

0

ওয়েবডেস্ক: কর্নাটকের হাম্পি। বিজয়নগর রাজত্বের রাজধানী হাম্পি। বিজয়নগরের রাজা কৃষ্ণদেব রায়ের আমলে হাম্পির প্রতিপত্তি। শহরকে ঘিরে রেখেছে একাধিক সৌধ। একাধিক মন্দির এবং সেই সঙ্গে অসংখ্য সৌধ। সব মিলিয়ে হাম্পি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে এই হাম্পি বেশ কয়েক বছর ধরে বাঙালি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই হাম্পি এখন জলের তলায়। পরিস্থিতি এমন যে পর্যটকদের উদ্ধার করার জন্য হেলিকপ্টার পাঠাতে হয়েছে প্রশাসনকে।

গত দিন দশেক ধরে প্রবল বন্যার কবলে উত্তর কর্নাটক। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০। উত্তর কর্নাটকের বিভিন্ন অঞ্চল জলের তলায় চলে গেলেও, হাম্পি সেই বন্যার কবল থেকে বেঁচেই ছিল। কিন্তু গত রবিবার থেকে ধীরে ধীরে তুঙ্গভদ্রার জল ঢুকে ভাসিয়ে দিয়েছে হাম্পির অধিকাংশ সৌধকে। জল চলে এসেছে হাম্পির প্রধান মন্দির বিরূপাক্ষ মন্দিরের চাতালেও।

হাম্পির কাছেই হসপেট শহরে তুঙ্গভদ্রার ওপরে জলাধার। কয়েক দিন ধরেই সেখানে জলের চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। শেষে জল ধরে রাখতে না পেরে জলাধারের দশটি স্লুইস গেট খুলে দেয় প্রশাসন। আর তাতেই ভেসেছে হাম্পি।

আরও পড়ুন জম্মু স্বাভাবিক, কাশ্মীরে আরও কিছুদিন কড়াকড়ি থাকবে: পুলিশ আধিকারিক

বল্লারির ডেপুটি কমিশনার এসএস নকুল জানিয়েছেন, হাম্পির সৌধগুলির মধ্যে বিঠ্‌ঠল মন্দির, কোদণ্ডরাম মন্দির, জৈন মণ্ডপ-সহ আরও বেশ কিছু জায়গায় জল চলে এসেছে। রবিবার আকস্মিক ভাবে জল ঢুকতে শুরু করায়, বিভিন্ন মন্দিরে আটকে পড়েন প্রায় ৬০ জন পর্যটক। প্রশাসনের তরফ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে সমস্যা তৈরি হয় তুঙ্গভদ্রার মধ্যে অবস্থিত একটি দ্বীপে পর্যটকরা আটকে পড়ায়। প্রায় ৫০০ পর্যটক ওই দ্বীপে আটকে পড়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ১০০ জন বিদেশি।

দু’ দিন ওই দ্বীপে আটকে থাকার পর মঙ্গলবার বায়ুসেনার বিশেষ কপ্টার তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। হাম্পিতে এই বন্যার ফলে সৌধগুলির যে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হবে তা স্বীকার করে নিয়েছে প্রশাসন। পর্যটন মরশুম পুনরায় শুরু হওয়ার আগেই তা ঠিক করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here