খবরঅনলাইন ডেস্ক: পূর্ব ভারতের দুই রাজ্য বন্যাকবলিত। একটি সদ্য বন্যার কবলে পড়েছে, আর একটি রাজ্য গত এক মাস ধরে বন্যায় কবলিত। প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ অসহায়। অথচ এই পরিস্থিতি নিয়ে দেশের বাকি অঞ্চলে বিশেষ হেলদোল নেই। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই অসম আর বিহারের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।

অসমে মৃত বেড়ে ৯৩

অসমের বন্যায় নতুন করে আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৩। সেই সঙ্গে ধসে মৃত্যুর সংখ্যা যোগ করলে সেটা বেড়ে হচ্ছে ১১৯। বন্যা কবলিত ২৬টি জেলায় দুর্গত মানুষের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ লক্ষ ৩২ হাজার ৪১০।

বৃহস্পতিবার রাজ্যের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যপাল জগদীশ মুখি। বেশ কিছু জেলা পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়ালও।

রাজ্যের কুড়িটা জেলায় ৪৫৬টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে যেখানে ৪৭ হাজারের কিছু বেশি মানুষকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রাজ্যে বন্যায় এখনও পর্যন্ত ১.১৯ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ডিব্রুগড়, ধুবুরী আর গোয়ালপাড়া শহরে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে ব্রহ্মপুত্র। জোরহাটের নেমাতিঘাট আর তেজপুরেও পরিস্থিতি খারাপ। এত দিন পর্যন্ত তুলনায় নিরাপদ ছিল গুয়াহাটি। যদিও অসমের রাজধানীতেও পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে ১২৩টি বন্যজন্তুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে দেড়শো বন্যজন্তুকে। তবে অন্য বারের থেকে এ বার বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কম বলেও দাবি করা হয়েছে।

কোভিড পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক অসমে। সেই সঙ্গে বাঘজানের আগুনও চিন্তা বাড়িয়েছে প্রশাসনের। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে এই বন্যা।

বিহারে দুর্গত প্রায় ৮ লক্ষ

বন্যায় বিহারে দুর্গত ৭ লক্ষ ৬৫ হাজার মানুষ। রাজ্যের দশটি জেলার পরিস্থিতি খুবই খারাপ বলে জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।

২৪ ঘণ্টা আগেও দুর্গতের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষের কম। সেটাই একটা বড়ো রকমের ঝাঁপ দিয়েছে। যদিও স্বস্তির খবর একটাই যে বন্যায় এখনও পর্যন্ত কারও মৃত্যু হয়নি।

বন্যায় সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে সীতামাঢ়ী, সেওহর, সুপৌল, কিষাণগঞ্জ, দ্বারভাঙা, মুজফ্‌ফরপুর, গোপালগঞ্জ, পূর্ব চম্পারন, পশ্চিম চম্পারন আর খাগাড়িয়ায়।

এখনও পর্যন্ত ৩৭ হাজার মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে পাঠানো হয়েছে। এনডিআরএফ আর এসডিআরএফের বিশেষ বাহিনী এক যোগে কাজ করছে।

গত কয়েক দিন ধরে অতিবৃষ্টি হয়েছে বিহারে। একই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে নেপালেও। এর ফলেই বন্যা পরিস্থিতি এরকম চরম আকার ধারণ করেছে। তবে আগামী দিনের পূর্বাভাস কিছুটা ভালো হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন