মহারাষ্ট্র-কর্নাটকে বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, চিন্তায় ওড়িশাও, উত্তরাখণ্ডে মেঘভাঙা বর্ষণে মৃত ২

0

ওয়েবডেস্ক: প্রবল বর্ষণে দেশে পশ্চিম, মধ্য এবং দক্ষিণ প্রান্তের একটা বড়ো অংশের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। কেরলের পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকে। এমনকি ওড়িশাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। চিন্তায় রয়েছে ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাতও। অন্য দিকে পাহাড়েও দাপট দেখাচ্ছে অতি বৃষ্টি।

বর্ষণ-বন্যায় সব চেয়ে বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র। ঘরবাড়ি জলের তলায় চলে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্তত দু’লক্ষ মানুষকে। বন্যার জল ঢুকে গিয়েছে পশ্চিম মহারাষ্ট্রের সাংলির জেলখানাতেও। হাঁটুজলে আটকে পড়া ৩৭০ জন কয়েদিকে তড়িঘড়ি দোতলায় ব্যারাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এডিজি (কারা) সুনীল রামানন্দ জানিয়েছেন, জেলের একতলা এখনও জলের তলায়। যদিও এখনই জেলবন্দিদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করার প্রয়োজন নেই।

বন্যায় এখনও পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস আকাশপথে বন্যাবিধ্বস্ত সাংলি এবং কোহলাপুরের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। বৃষ্টির জেরে গত কয়েক দিনে একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনে বদলে দেওয়া হচ্ছে যাত্রাপথও। যদিও বৃহস্পতিবার কর্নাটক সরকার কৃষ্ণা নদীতে অবস্থিত আলমাত্তি বাঁধ থেকে পাঁচ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়তে রাজি হয়েছে। যার ফলে পশ্চিম মহারাষ্ট্রের বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা থেকে জলস্তর অনেকটাই নেমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তর কর্নাটকের বন্যা পরিস্থিতিতেও এখন বিশেষ পরিবর্তন নেই। রাজ্য সরকারের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যাদুর্গত ১৬ হাজারের কিছু বেশি মানুষকে নিরাপদে ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে সাহায্য করার জন্য এনডিআরএফের বাহিনীকে কাজে নামানো হয়েছে।

ওড়িশার বন্যা পরিস্থিতিও ভয়াবহ। সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে রাজ্যের দক্ষিণপশ্চিম অংশে। গত কয়েক দিন প্রবল বৃষ্টি হয়েছে এই সব জায়গায়। বন্যার সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে কোরাপুট, কালাহান্দি এবং কন্ধমল জেলায়। পাশাপাশি মলকানগিরি, গজপতি এবং রায়গড়া জেলাতেও পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুন ইতিহাস গড়তে চলেছে কলকাতা, ভিডিও পোস্ট করে টুইট রেলমন্ত্রীর

স্বস্তিতে নেই গুজরাত, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশও। গভীর নিম্নচাপের ফলে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে এই তিন জেলায়। ফলে বিভিন্ন জায়গায় নদীগুলি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। মধ্যপ্রদেশে কিছু কিছু জায়গায় বিপদসীমা অতিক্রম করেছে নর্মদা। গত সপ্তাহেই বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল গুজরাত। সেই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগেই ফের ভারী বৃষ্টির ভ্রুকুটি। সব মিলিয়ে চিন্তায় রয়েছে প্রশাসন।

পাহাড়েও দাপট দেখাচ্ছে বৃষ্টি। গত কয়েক দিন ধরেই জোর বৃষ্টি চলছিল উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়ালে। শুক্রবার সকালে চামোলি জেলার দু’টি গ্রামে মেঘভাঙা বর্ষণ হয়েছে। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ১০টি বাড়ি জলের তোড়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন