পটনা: ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও জলবন্দি পটনার দুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষ্মণ নেই। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেকর্ড ভাঙা বর্ষণ হয়েছে পটনা-সহ গোটা বিহারে। শহরের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪০০ মিলিমিটারের বেশি। এত কম সময়ে এত পরিমাণে বৃষ্টি কখনও দেখেনি পটনা। ফলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে গোটা শহরে।

১৯৭৮-এ কলকাতা বা ২০১৫-এ চেন্নাইয়ের যে অবস্থা হয়েছিল, সেই রকম অবস্থা পটনায়। একটা গোটা শহর পুরো জলের তলায় চলে গিয়েছে।

সব থেকে খারাপ অবস্থা পটনার হনুমান নগর, রাজেন্দ্র নগর এবং কাঁকড় বাগ অঞ্চলে। সেখানে সব বাড়ির একতলাগুলি জলের তলায়। বাসিন্দারা হয় দ্বিতীয় তল বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

আরও পড়ুন ২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিল বর্ষা, দেশ জুড়ে মৃত্যুমিছিল

এলাকার বাসিন্দাদের সকালে ঘুম ভাঙছে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারের আওয়াজে। ওপর থেকে ফেলা হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী, কিছু শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং জলের বোতল।

জল কেন নামছে না পটনা থেকে? স্থানীয় বাসিন্দা এবং আধিকারিকদের দাবি, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা এর জন্য দায়ী। এত বৃষ্টি কখনও দেখেনি পটনা আর তাই নিকাশির দিকে কোনো নজরই দেওয়া হয়নি। রসিকতা করে অনেকে এ-ও বলছেন, এখন যখন রোদ্দুর উঠেছে, তার ওপরেই ভরসা করতে হবে জল নামানোর জন্য।

প্রশাসনিক কর্তারা জানাচ্ছেন, জল নামানোর জন্য বড়ো বড়ো পাম্পের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলি চালানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। কারণ যে জায়গায় জল নামানোর সব থেকে বেশি প্রয়োজন সেখানে বিদ্যুতই নেই, যে এই পাম্প চলবে।

এখনও পর্যন্ত বিহার জুড়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শহরে দুর্গত মানুষদের সাহায্যার্থে কাজ করে যাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বাহিনীর নবম ব্যাটিলিয়নের কম্যান্ডার বিজয় সিন্‌হা বলেন, “শহর জুড়ে আমাদের দু’শো জওয়ান কাজ করছেন। এখনও পর্যন্ত তিন হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ১২ জন গর্ভবতী মহিলা রয়েছেন।”

এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্যা পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষ। সেই বিক্ষোভে পড়ে আরও মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি।

বিক্ষোভরত মানুষদের তিনি সটান প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “এই সমস্যা কি শুধু পটনাতেই হচ্ছে না কি? আমি জিজ্ঞেস করছি ভারতের আর কোথায় কোথায় এই সমস্যা হয়েছে দেখুন। আমেরিকায় (হারিকেন ডোরিয়ান) কী হয়েছে?”

বৃষ্টি-সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তাঁদের কোনো হাত নেই বলে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন নীতীশ। সেই সঙ্গে তিনি জানান, ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে।

[পশ্চিমবঙ্গে বন্যার বর্তমান পরিস্থিতি জানার জন্য ক্লিক করুন এখানে]

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন