ভয়াবহ বন্যার কবলে চার রাজ্য, মৃত ৯৯, ঘরছাড়া ৪ লক্ষ

0

ওয়েবডেস্ক: ভারতের অন্তত আটটি রাজ্য এই মুহূর্তে বন্যার সঙ্গে যুজছে। কিন্তু পরিস্থিতি সব থেকে খারাপ চার রাজ্যে। কেরল, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক এবং তামিলনাড়ুতে বন্যা এবং ধসের ফলে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘরছাড়া হয়েছে কমপক্ষে ৮৭ হাজার।

পরিস্থিতি সব থেকে খারাপ কেরল এবং মহারাষ্ট্রে। এই সপ্তাহের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই দুই রাজ্যে মোট ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Loading videos...

মহারাষ্ট্রের কোহলাপুর এবং সাংলির অবস্থা সব থেকে শোচনীয়। এই দুই জেলায় বন্যা কবলিত ২ লক্ষ মানুষ। বন্যার প্রভাবে ব্যাহত হয়েছে রেল এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। মুম্বই-বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার জল যাওয়ায় গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। প্রায় এক লক্ষ হেক্টর চাষের জমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছত্তীসগঢ় এবং মধ্যপ্রদেশের কিছু কিছু জায়গাও বন্যাকবলিত। সে দুই রাজ্যে এখনও পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।

চার রাজ্যের জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৮৩টি দলকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখার জন্য শুক্রবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই।

গত বছর আগস্টের ভয়াবহ স্মৃতি আবার ফিরে আসছে কেরলে। রাজ্যে বন্যা এবং ধসে এখনও পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওয়েনাড় এবং মলাপুরম জেলায় দু’টি বড়োসড়ো ধসের ঘটনা ঘটেছে। ওয়েনাড়ের ধসের প্রভাব মারাত্মক। সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। সেই সঙ্গে ধসে গিয়েছে একটি মন্দির এবং একটি মসজিদও।

অন্য দিকে কর্নাটকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ২১ হাজার মানুষ ঘরছাড়া। এত দিন পর্যন্ত উত্তর কর্নাটকের জেলাগুলিতে বন্যা দাপট দেখাচ্ছিল। এ বার দক্ষিণেও তার প্রভাব ফেলছে। বন্যা এবং ধসে জর্জরিত কুর্গ জেলা। রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮।

অন্য দিকে তামিলনাড়ুতে ধসের কারণে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। বৃষ্টির সব থেকে বেশি প্রভাব নীলগিরি, কন্যাকুমারী এবং তিরুনেলভেলি জেলায়। নীলগিরির কিছু কিছু জায়গায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ১২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশেও। পশ্চিম গোদাবরী জেলার বেশ কিছু জায়গায় চরম বিপদসীমা অতিক্রম করেছে গোদাবরী।

আরও পড়ুন আড়াই মাস পর এই বিশেষ দিনে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ

তবে বৃষ্টি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ওড়িশায়। যদিও সেখানেও তিন জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এরই মধ্যে নতুন করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে গুজরাত এবং পূর্ব রাজস্থানের জন্য। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি এখন ওই অঞ্চলেই অবস্থান করছে। ফলে আগামী দু’ দিন চরম অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের এতগুলো জেলা যখন অতি বৃষ্টির কবলে, তখন আমাদের দক্ষিণবঙ্গের অবস্থা এখনও খারাপ। যদিও গত দু’ সপ্তাহ ধরে মোটের ওপরে ভালো বৃষ্টি হওয়ায় ঘাটতিটা ৫৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪২ শতাংশ। কিন্তু খরার আশঙ্কা দূর করতে হলে, আরও প্রবল বৃষ্টি দরকার দক্ষিণবঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.