mehbooba mufti kashmir

নয়াদিল্লি: কাশ্মীরিদের ওপরে গায়ের জোর প্রয়োগ করলে কোনো ভাবেই রাজ্যে শান্তি ফিরবে না। শান্তি ফেরাতে হলে সরকারকে কিছু ঝুঁকি নিতে হবে। এমনই মনে করেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তাঁর মতে, বছর দুয়েক আগে বিনা আমন্ত্রণে লাহৌর গিয়ে ঠিক এ রকমই একটা ঝুঁকি নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী, যদিও তার এক সপ্তাহ পরে পাঠানকোটে জঙ্গি হামলার ফলে সেই কূটনীতি ব্যর্থ হয়।

ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আইডিয়া কনক্লেভ’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথাগুলি বলেন মেহবুবা। এই সংগঠনের মূল পৃষ্টপোষক দেশের কয়েক জন প্রবীণ বিজেপি নেতা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর উদ্যোগের উদাহরণ দেন মেহবুবা। তিনি বলেন, বাজপেয়ীর উদ্যোগের ফলেই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে দশ বছরের জন্য উত্তেজনা কমে গিয়েছিল।

তাঁর কথায়, “গায়ের জোরে কাশ্মীরে শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়। উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে হলে কিছু ঝুঁকি নিতে হবে। ঠিক যেমন নরেন্দ্র মোদী নিয়েছিলেন, বিনা আমন্ত্রণে পাকিস্তান গিয়ে। এটা একটা রাষ্ট্রনায়কের মতো কাজ হয়েছিল।”

মেহবুবা বলেন, কাশ্মীর ছাড়া, ভারতকে ভাবা যায় না। কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উপত্যকায় এখন অসহায়তা রয়েছে, যদিও আশাহীনতা নেই। নিজের মানুষের বিরুদ্ধে কখনও বল প্রয়োগ করা যায় না। রাজ্যে এনআইএ রয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনী রয়েছে, কিন্তু তাদের কাজ তো জঙ্গি এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। নিজের মানুষের বিরুদ্ধে কি কখনও যুদ্ধ করা যায়!”

তিনি বলে চলেন, “কাশ্মীর এখন অবরোধের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। উপত্যকায় এখন মানসিক অবরোধ, অনুভূতির অবরোধ চলছে।” কাশ্মীরের অধিকাংশ মানুষই ভারত-বিরোধী নয় বলে মত মেহবুবার। তিনি বলেন, “কাশ্মীরের কথা চিন্তা করলে আমরা যেন পাকিস্তানের কথা না চিন্তা করি। কারণ কাশ্মীর পুরোপুরি আমাদের।”

কাশ্মীরে এখন বিজেপি-পিডিপি জোট সরকার। এই জোটের ব্যাপারে বলতে গিয়েছে মেহবুবা বলেন, তাঁর বাবা, মুফতি মহম্মদ সঈদ যখন বিজেপি’র হাত ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখন তিনি নিজেও অবাক হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে ব্যাপারটা আত্মাহুতি হল না? তিনি বলেছিলেন, বিজেপি একটি জাতীয় পার্টি। তাদের যদি বোঝানো যায় তা হলে উপত্যকার ভালোর জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে তারা।”

কাশ্মীরকে ভারতের মুকুট হিসেবেই দেখতে চান মেহবুবা। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে ভারতের গেটওয়ে হতে পারে কাশ্মীর।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here