শেষ পর্যন্ত ষাঁড়েরও চরিত্রবিচার!

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ‘অসহিষ্ণুতা’ আর ‘গরু’ নিয়ে চর্চা বেড়েই চলেছে। সেই তালিকায় এ বার জুড়ল নতুন পালক। রাজ্যের মালিকানাহীন গবাদিপশুর সংখ্যা নিয়ে হরিয়ানা বিধানসভায় চলছিল বিতর্ক। হরিয়ানার পশুপালন এবং দুগ্ধ বিভাগের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ ধাঙ্কার এই বিতর্কে যোগ দিয়ে বিদেশি ষাঁড়গুলোকে ‘চরিত্রহীন’ বলে আখ্যা দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি যে সব দেশ থেকে গরু আমদানি করা হয়, সে সব দেশের কথাও টেনে আনেন। বলেন, ওই সব দেশের মতোই ওখানকার ষাঁড়গুলোরও চরিত্র বলে কিছু নেই – “জ্যায়সা ওহাঁ কে কোই মূলকো মেঁ ক্যারেকটার হ্যায়, ওইসা হি ইনকা ক্যারেকটার হ্যায়”। তিনি আরও বলেন, দেশি আর বিদেশি গবাদি পশুর মিলনে তৈরি সঙ্কর জাতের ষাঁড় চরিত্রগত ভাবে খুবই আক্রমণাত্মক। দেশি গবাদি পশু প্রজনন ঋতু মেনে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মিলিত হয়, কিন্তু বিদেশিদের রকমসকম আলাদা। এরা কোনও সময়বিধি মানতে চায় না। ভীষণ উচ্ছৃঙ্খল। স্থান, কাল, পাত্র কোনও বিবেচনা করে না। এদের অসভ্যতায় মন্ত্রী যারপরনাই ক্ষিপ্ত। 

বিতর্কে অংশ নিয়ে কংগ্রেসের কিরণ চৌধুরি বলেন, শুধুমাত্র রাস্তায় ‘ষাঁড় বিভ্রাট’-এর জেরে দিল্লি থেকে ভিওয়ানি যেতে দেড় ঘণ্টা বেশি সময় লাগে।

মন্ত্রী ওমপ্রকাশ অবশ্য বেফাঁস মন্তব্যে সিদ্ধহস্ত। এর আগে ২০১৫ সালে সারা দেশ জুড়ে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনাতেও মুখ খুলেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ভারতীয় আইন আত্মহত্যাকে অপরাধ হিসেবেই গণ্য করে। আত্মহত্যার অর্থ হল পালিয়ে যাওয়া। অতএব ‘কাপুরুষ’ কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কোনও মানেই হয় না দেশের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here