রাজধানী নয়, বিদেশি অতিথিদের গন্তব্য এখন গুজরাত! এ বার কি নয়াদিল্লির জায়গা নিচ্ছে অমদাবাদ?

0

নয়াদিল্লি: সম্প্রতি ভারতে এসে গুজরাত সফর করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (HWO) প্রধান টেড্রোস অ্যাডহ্যানোম গ্যাব্রিয়েসাস। এ দেশে এসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের গন্তব্যও সেই গুজরাত। রাজধানী নয়াদিল্লির বদলে গুজরাতে বিদেশি অতিথি সমাবেশের আসল কারণটা কী?

টেড্রোস থেকে জনসন, গন্তব্য গুজরাত

ভারত সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গুজরাতে জমকালো অভ্যর্থনা পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। বৃহস্পতিবার তাঁর বিমান অবতরণ করে অমদাবাদে। বিমানবন্দর থেকে শুরু হয় তাঁকে স্বাগত জানানোর প্রক্রিয়া। সফরের দ্বিতীয় দিনেও একের পর এক সংবর্ধনা অব্যাহত। যা দেখে যারপরনাই মুগ্ধ জনসন। যা দেখে এমনটাও বলেছেন, গুজরাতে তাকে যে ভাবে স্বাগত জানানো হচ্ছে, তাতে নিজেকে অমিতাভ বচ্চন বা সচিন তেন্ডুলকর মনে করছেন তিনি।

জনসনের আগে গান্ধীনগরে ‘গ্লোবাল আয়ুষ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন সামিট’-এ যোগ দেন হু প্রধান। মোদীর প্রশংসায় তিনি এমন ভাবে বলতে শুরু করেন, যেন শ্বাস-প্রশ্বাসের কথাও ভুলে গিয়েছেন। মোদীও তাঁর গুজরাতি নামকরণ করেন। টেড্রোস অ্যাডহ্যানোম গ্যাব্রিয়েসাসের নতুন নাম হয়ে যায় ‘তুলসি ভাই’।

তবে ভারতে আসা বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানো বা প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসায় তাঁদের পঞ্চমুখ হওয়া নয়, প্রশ্ন উঠছে নয়াদিল্লির পরিবর্তে তাঁদের কেন আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে গুজরাতে?

মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ঐতিহ্য বদল

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন মোদী। তার আগে তিনি ছিলেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। সে সময় দেশের কূটনীতির কেন্দ্র ছিল নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রপ্রধান বা অন্য কোনো শীর্ষ আধিকারিকরা এ দেশে এলে নয়াদিল্লিতেই উঠতেন। তার পর অন্য কোনো জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলে কেন্দ্র সরকার সেই ব্যবস্থা করে দিত।

কারণ, বিদেশি অতিথিরা ভারতে এসে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতেন এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতেন। বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দিতেন এবং তার পর দেশে ফিরে যেতেন। মোদী সরকারের আমলে সেই ঐতিহ্য বদলেছে। নয়াদিল্লি ছাড়া অন্য শহরে বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে গুজরাতের অমদাবাদকে। অনেকের মতে, প্রায় ১৪ বছর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন মোদী। যে কারণে, ২০১৪ সালের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁকে পেশ করেছিল বিজেপি। সে বার জয় মেলার পাশাপাশি পুনরাবৃত্তি ঘটে ২০১৯-এ। নিজের জনপ্রিয়তার উৎসস্থল বিদেশি অতিথিদের চাক্ষুষ করাতে চাইছেন মোদী।

গুজরাতে আমন্ত্রণের নেপথ্য কারণ

বিদেশি অতিথিদের গুজরাতে আমন্ত্রণ জানিয়ে সে রাজ্যে তাঁর নেতৃত্বে ঠিক কী রকম উন্নয়ন ঘটেছে, সেটাই দেখানোর চেষ্টা করতে পারেন মোদী। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারগুলোও এতে উৎসাহিত হতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে তারাও একই ধরনের কর্মসূচি নিতে পারে। সবমিলিয়ে, শুধুমাত্রী নয়াদিল্লিতে জোর না দিয়ে দেশের অন্যান্য শহরে বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো একটি ‘লাভজনক’ কৌশল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে গুজরাত যতটা পারে, অন্য রাজ্যগুলোর পক্ষে তা সম্ভব নয় বলেই ধরে নেওয়া যায়।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান গুজরাত সফর করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তৎকালীন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, তৎকালীন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তা এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন প্রমুখ।

বাড়তি সংযোজন

বছর শেষে বিধানসভা ভোট গুজরাতে। সাংগঠনিক দুর্বলতায় ভুগছে বিরোধী দল কংগ্রেস। ফাঁকফোঁকর গলে মাথা গোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। অন্য দিকে, ধারাবাহিক ভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত গেরুয়া শিবিরে।

আরও পড়তে পারেন:

দিল্লি যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

এলআইসি আইপিও নিয়ে অনুমান বদল, সংগ্রহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনল কেন্দ্র

থার্মাল স্ক্যানিং ছাড়া স্কুলে ঢোকা নিষেধ, নয়া নির্দেশিকা দিল্লি সরকারের

ফের দময়ন্তীতে আস্থা হাইকোর্টের, নামখানা ধর্ষণ কাণ্ডেও নজরদারির নির্দেশ

জামিন পেলেন লালুপ্রসাদ যাদব, ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জেল থেকে মুক্তি

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন