মহম্মদ সানাউল্লাহ।

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: বিদেশি ট্ৰাইবুনাল (এফটি) কর্তৃক ‘বিদেশি’ ঘোষিত প্ৰাক্তন ভারতীয় সেনা অফিসার মহম্মদ সানাউল্লাহর জামিন মঞ্জুর করল গৌহাটি হাইকোর্ট। ২০ হাজার টাকা বন্ড এবং সম পরিমাণ টাকার দু’ জন স্থানীয় জামিনদারের বিনিময়ে এই জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

সানাউল্লাহর জামিনের আবেদনটি শুক্রবার শুনানির জন্য গ্রহণ করে গৌহাটি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের পাশাপাশি ভারত সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাষ্ট্ৰীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) কার্যালয় এবং তদন্তকারী অফিসার চন্দ্ৰমল দাসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে।

Loading videos...

এ দিন এই গুরুত্বপূৰ্ণ মমলার পক্ষে ওকালতি করেন দেশের বিশিষ্ট মানবতাবাদী কর্মী তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইন্দিরা জয় সিং। তাঁকে সহযোগিতা করেন হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী ও আইনজীবী বি রহমান, উদুদ আমান। এ দিনের এই মামলায় সরকারি প্রশাসনের যে গাফিলতি ছিল, তা সামনে এসেছে। ৩০ বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর সানাউল্লাহকে প্রায় বিনা দোষে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হয়েছে। তাই ক্যাপ্টেন সানাউল্লাহের মামলায় স্বভাবতই অসম সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার, এনআরসি প্রধান প্রতীক হাজেলা, এমনকি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে হাইকোর্ট।

যাঁর এখন জেলে থাকার কথা, যিনি স্বীকার করেছেন যে সানাউল্লাহ নামে অন্য এক নিরক্ষর শ্রমিকের বদলে ‘বিদেশি’ হিসাবে চিহ্নিত করে প্রাক্তন সেনা অফিসার সানাউল্লাহর নাম ট্রাইবুনালে পাঠিয়েছেন, সেই সীমান্ত পুলিশ চন্দ্রমল দাসকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হাজার ভুল করেও চন্দ্রমল দাস কেন আজও জেলের বাইরে সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী চৌধুরী। তিনি এ দিন আবার বলেন, সীমান্ত পুলিশ, বিদেশি ট্রাইবুনালগুলি মারাত্বক সব ভুল করে হাজার হাজার সানাউল্লাহ বানাচ্ছে। প্রশ্ন তোলেন বাকি যারা বিনা দোষে ডিটেনশন ক্যাম্পে জেল খাটছে তাদের ছাড়া হবে কিনা?

আরও পড়ুন অসমের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে বিদেশি তকমা দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়

ভারতীয় নাগরিকের সকল নথিপত্র পেশ করেও রবীন্দ্র মণ্ডল, সাধনা সরকার, গোপাল মণ্ডল, বংশীধর বংশী, মধুবালা দাস, লামডিং-এর সন্ধ্যা পাল দুই শিশুসন্তানকে বাড়িতে রেখে ডিটেনশন ক্যাম্পে জেল খাটছেন। তাঁদের কী হবে, আজ সেই প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চ।

প্ৰাক্তন ভারতীয় সেনা অফিসার সানাউল্লাহকে বিদেশি ট্ৰাইবুনাল (এফটি) ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে গত ২৯ মে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিয়েছিল। কামরূপ জেলার বকোর বিদেশি ট্ৰাইবুনাল গত ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মহম্মদ সানাউল্লাহর উদ্দেশে নোটিশ জারি করেছিল এবং পরে তাকে বিদেশি ঘোষণা করে। কামরূপ জেলার  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জীব শইকিয়ার মতে, ২০০৮ সালে কামরূপ জেলার বিদেশি ট্ৰাইবুনালে একটি মামলা রুজু করা হয়েছিল। ট্ৰাইবুনালের রায়ের পর প্ৰাক্তন সেনা আধিকারিককে গোয়ালপাড়ার ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

সানাউল্লাহর জন্ম কামরূপ জেলার ছয়গাঁওয়ের কলহিকাষ গ্ৰামে ১৯৬৭ সালের ৩০ জুলাই। ১৯৮৫ সালে বকোর চাম্পুপাড়া সরকারি হাইস্কুল থেকে তিনি ম্যাট্ৰিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর পর বরপেটা জেলার চেঙা কলেজে পড়াশোনা করেন সানাউল্লাহ। ২০১৭ সালের ৩১ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন তিনি। ২০১৮ সালে অসম পুলিশের সীমান্ত শাখায় পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেন। কামরূপ জেলার বাইহাটা চারালি থানায়ও কার্যনির্বাহ করেছেন তিনি। ২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্ৰপতির কাছ থেকে শংসাপত্ৰও পেয়েছিলেন সানাউল্লাহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.