যোগী শপথ নেওয়ার পরেই পথে অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড, চেহারা নিচ্ছে নীতি পুলিশের

0
116

মেরঠ : নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই মেয়েদের সম্মান বাঁচানোর জন্য ‘অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড’ তৈরি হল যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে। ‘মেয়েদের সম্মানরক্ষা’র পতাকা উড়িয়ে আসলে ‘নীতি পুলিশের’ চেহারা নিয়েছে এই স্কোয়াড। এক কথায় সাবালকদের অধিকার হরণের চেষ্টায় মেতেছে বিজেপি রাজ্যের এই বাহারি বাহিনী, মনে করছেন অনেকেই। মঙ্গলবার থেকেই মেরঠে এই বাহিনী কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। ইভটিজিং রুখতে আর মেয়েদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই জেলার বিভিন্ন জায়গায় বা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সামনে এই এই অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। 

নির্বাচনী প্রচারের সময়ে এমন একটা বাহিনী গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই কথা রাখতেই মুখ্যমন্ত্রী পদে যোগী আদিত্যনাথের শপথ নেওয়ার পরই বাহিনী গঠনের কাজ সেরে ফেলা হয়েছে মেরঠে। সেখানকার প্রত্যেক থানাপিছু একটি করে এই বাহিনী গড়ে উঠেছে। এক একটি দলে রয়েছে ৩-৪ জন পুলিশ। 

অনেকেরই অভিযোগ, এই পুলিশ বাহিনী মেয়েদের নিরাপত্তা দেওয়ার নামে নীতি পুলিশের রূপ নিয়েছে। এদের কাজ আর উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমাটা অস্পষ্ট, যা কাম্য নয়। স্কুল, কলেজ,  যে কোনো প্রতিষ্ঠান, পান-সিগারেটের দোকান বা খাবারের দোকান ইত্যাদি জায়গায় ছেলেদের জমায়েত দেখলেই তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুরু করা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদও। এর পর তাদের অভিভাবকদের ডেকে ছেলেদের সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে।

 

এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য ডিএন কলেজের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। ‘অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড’-এর পুলিশরা জানতেনও না তিনি কোনো ছেলের সঙ্গে না মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। তা সত্ত্বেও বার বার এসে তাঁকে সতর্ক করে যাচ্ছিলেন। এমনকি তাঁর অভিভাবকের ফোন নম্বরও চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ইচ্ছা করেই ভুল নম্বর দেন। তিনি বলেন, এই বাহিনীর কাছে মোটরবাইকে চড়া যে কোনো ছেলেই ‘মজনু’।

ভুক্তভোগী এক অভিভাবক জানান, তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হয় তাঁর ছেলের আচরণ সম্পর্কে জানানোর জন্য। তিনি বলেন, তাঁর ছেলের বয়স ১৯। সে প্রাপ্তবয়স্ক। সে কী করবে না করবে, কোথায় দাঁড়াবে আর কোথায় না, এগুলো সে নিজেই ঠিক করবে। তা পুলিশের ঠিক করে দেওয়া কাজ নয়। পুলিশের তাতে নাক গলানোর কোনো দরকার নেই। আর এই ব্যাপারে বাবাকে ডেকে নালিশ করারও কোনো যুক্তি নেই।

পুলিশ সূত্রের খবর, এই বাহিনীর কার্যপ্রণালী অনেকটা ২০০৫ সালের কুখ্যাত ‘অপারেশন মজনু’ বাহিনীর কাজের মতোই। এই সময় ক্রসিং-এ দাঁড়ানো ছেলেদের, পার্ক-বাগানে বসা জুটিদের পুলিশ তুলে আনছিল। তাঁরা নীতি পুলিশের কাজ করছিল। ফলে ভীষণভাবে সমালোচিত হয় এই বিশেষ বাহিনী। এমনকি দু’ জন পুলিশ অফিসারকে বরখাস্তও করা হয়।

সিটি পুলিশের এসপি আলোক প্রিয়দর্শী যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এই বাহিনীর উদ্দেশ্য মেয়েদের সম্মান রক্ষা করা আর ইভটিজিং বন্ধ করা। তার জন্য যা কিছু করতে হয় সবই করবেন তাঁরা। এটা মোটেই নীতি পুলিশের মতো কাজ নয়। 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here