নয়াদিল্লি: কম্প্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ তাদের রিপোর্টে জানিয়েছিল টুজি স্পেকট্রাম বণ্টনে অনিয়মের জন্য দেশের প্রায় ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে দেশের ১৩টি সংস্থাকে টুজি স্পেকট্রাম বণ্টন করা হয়েছিল। সে সময় দেশের টেলিকম মন্ত্রী ছিলেন ডিএমকে সাংসদ এ রাজা। বিভিন্ন মোবাইল বা মোবাইল পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাকে বিলি করা হয়েছিল এয়ারওয়েভ ও লাইসেন্স। এই ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো দুর্নীতির ঘটনা বলে চিহ্নিত করেছিল বিরোধীরা। মূলত এই অভিযোগের জেরেই পতন হয় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ টু সরকারের। বৃহস্পতিবার সিবিআই আদালত জানিয়ে দিল, টুজি স্পেকট্রাম বণ্টনে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বেকসুর খালাস করে দিল এ রাজা, কানিমোঝি সহ ১৫ জনকে। ১৩টি সংস্থাকেও মুক্তি দিয়েছেন সিবিআই আদালতের বিচারক ও পি সাইনি। এই সংস্থাগুলির মধ্যে ছিল অনিল অম্বানির সংস্থাও।

অভিযোগ ছিল, টুজি স্পেকট্রাম পাওয়ার জন্য এ রাজাকে ২০০ কোটি টাকা ঘুষ দেয় একটি সংস্থা। সেই টাকা জমা পড়ে তামিলনাডুর একটি টিভি চ্যানেলের অ্যাকাউন্টে। ওই চ্যানেলের অন্যতম অংশীদার ডিএমকে-র সাংসদ কানিমোঝি। এদিন তাঁকেও বেকসুর মুক্তি দিয়েছে আদালত।

২০১০ সালে প্রথম সামনে আসে টুজি স্পেকট্রাম বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ ওঠে, নিলামের যথাযথ প্রক্রিয়া মানা হয়নি। রাজা অবশ্য বরাবরই বলেছেন তিনি নির্দোষ। এই সংস্থা যাবতীয় তথ্য বিভিন্ন মন্ত্রক ও সলিসিটর জেনারেলকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি ছিল তাঁর। তিনি বলেছিলেন, তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ-ও বণ্টনের যাবতীয় বিষয় জানতেন। তবু ক্যাগের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর রাজা পদত্যাগ করেন। ২০১১ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১ বছর জেল খেটে জামিনে মুক্তি পান রাজা।

গত ৭ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু বিচারক সাইনি জানান, রায় লেখার জন্য তাঁর আরও সময় দরকার। তাঁর আগে, ৫ নভেম্বর অসুস্থ ডিএমকে প্রধান করুণানিধিকে দেখতে চেন্নাই যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তামিলনাডুতে বিজেপির শক্তি বাড়াতেই ওই পদক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন আদালতে হাজির ছিলেন এ রাজা ও কানিমোঝি- দুজনেই। দুজনেই নিশ্চিত ছিলেন, তাঁরা বেকসুর খালাস পেতে চলেছেন।

ফোর জি স্পেকট্রামের ভারতে টুজি কেলেঙ্কারির গুরুত্বই বা কতটুকু!

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here