four accused
ধর্ষণ-খুনে চার অভিযুক্ত।

ওয়েবডেস্ক: ২৬ বছরের এক পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে সাইবারাবাদ পুলিশ শুক্রবার চার জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ ওই চার ব্যক্তির পরিচয় জানায়। পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, এটি একটি গণধর্ষণের ঘটনা।

বৃহস্পতিবার ওই চিকিৎসকের দেহ শাদনগর থানার চতনপল্লি গ্রামের আউটার রিং রোডে এক আন্ডারপাসে পাওয়া যায়। জায়গাটা হায়দরাবাদ শহরতলিতে।   

ওই চার ব্যক্তি হল, মহম্মদ আরিফ (২৬), জলু শিব (২০), জলু নবীন (২০) এবং চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশবুলু (২০)। চার জনই নারায়ণপেট জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধে ৬টা নাগাদ শামশাবাদ টোল প্লাজায় ওই মহিলা ডাক্তার তাঁর বাইকটি পার্ক করে চলে যান। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ব্যপারটা লক্ষ করে। চার জনই মদ খেয়েছিল। তারা ওই মহিলাকে ধর্ষণের ছক কষে। ছক অনুযায়ী নবীন স্কুটারের টায়ার পাঙ্কচার করে দেয়। মহিলা যখন ফিরে আসেন, তখন আরিফ তার লরি থেকে নেমে আসে এবং মহিলাকে জানায় যে স্কুটার পাঙ্কচার।

সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিব বাইকটি নিয়ে চলে যায় এবং বাকি তিন জন মহিলাকে জোর করে টোল প্লাজার কাছে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে।

আরও পড়ুন: আচমকা গাছের পাতায় অদ্ভুত দাগ! আতঙ্ক ছড়াল বকুলতলা ও কুলতলিতে

যখন সবাই মিলে ধর্ষণ করছিল তখন আরিফ তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং তাঁকে শ্বাস রোধ করে মারে। হত্যার পর দুই অভিযুক্ত লরিতে করে দেহটি নিয়ে যায় এবং বাকি দু’ জন মহিলার বাইকটি নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে খালি বোতলে পেট্রোল সংগ্রহ করে। শেষ পর্যন্ত চতনপল্লির আন্ডারপাসে তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়।

বুধবার হায়দরাবাদের গচিবউলির এক ক্লিনিকে যাওয়ার কথা ছিল ওই মহিলা পশু চিকিৎসকের। তিনি তাঁর বাইক নিয়ে শামশাবাদ টোল প্লাজায় আসেন এবং সেখানে তাঁর বাইক পার্ক করে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে গচিবউলি যান। ৯টা নাগাদ টোল প্লাজায় ফিরে এসে দেখেন তাঁর বাইক পাঙ্কচার হয়েছে। ৯-২২ নাগাদ ওই মহিলা তাঁর বোনকে ফোন করে সব জানান এবং বলেন, তাঁর ভীষণ ভয় লাগছে। বোন যেন তাঁর সঙ্গে কথা চালিয়ে যান।

কথোপকথনে বোনকে ওই মহিলা বলেন, তিনি বার বার ‘না’ বলা সত্ত্বেও আশেপাশের লরিচালকরা তাঁর বাইক ঠিক করে দিতে চাইছে। “ওদের দেখে আমার খুব ভয় লাগছে। আমার কান্না পাচ্ছে। এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগছে না। আমার বাইক যত ক্ষণ না ফিরে আসে তুই প্লিজ কথা চালিয়ে যা। ওরা সব বাইরে অপেক্ষা করছে। তুই প্লিজ কথা চালিয়ে যা। আমার ভীষণ ভয় লাগছে।”

ওই মহিলার বোন ৯-৪৪ মিনিটে তাঁকে ফোন করেন। দেখেন ফোন সুইচড অফ। ভাবেন ফোনে চার্জ চলে গিয়েছে। পরে ওই তরুণীর পরিবার শামশাবাদ টোল প্লাজায় যায় এবং দেখে ওখানে কেউ নেই। প্রচুর খোঁজাখুঁজি করার পর তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ভোর ৩টে নাগাদ শামশাবাদ পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শাদনগর পুলিশ চতনপল্লি আন্ডারপাসে একটি পোড়া মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পান। শেষ পর্যন্ত ওই দেহ ওই মহিলা চিকিৎসকের বলে শনাক্ত করা হয়।                 

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন