সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: ভোটের প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলির দেদার ‘বিনামূল্যে’র প্রতিশ্রুতি আর জনকল্যাণ প্রকল্প এক নয়। নির্বাচনী মরশুমে রাজনৈতিক দলগুলির দেওয়া প্রতিশ্রুতি দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করছে বলে জানিয়ে এমনটাই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।

বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলে, দেশের অর্থনীতির ক্ষতি এবং জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা এবং বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারীর বেঞ্চ বলে, ভোটের সময় অযৌক্তিক বিনামূল্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ধারণাটিও ‘অগণতান্ত্রিক’।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনি আমাকে অনিচ্ছুক বা রক্ষণশীল বলতে পারেন, কিন্তু আমি আইনসভার চৌহদ্দিতে দখলদারি করতে চাই না। তবে এটা একটা গুরুতর বিষয়। এ ব্যাপারে অন্যদের বক্তব্যও আমাদের শুনতে হবে। নির্বাচনী মরশুমে বিনামূল্যের প্রতিশ্রুতি আর জনকল্যাণ প্রকল্প আলাদা। অর্থনীতির ক্ষতি এবং মানুষের কল্যাণে ভারসাম্য রাখতে হবে। সে জন্যই এই বিতর্ক। অনুগ্রহ করে আমার অবসরের আগে বক্তব্য পেশ করুন। উল্লেখ্য, আগামী ২৬ আগস্ট প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অবসর নেবেন রমনা। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ আগস্ট”।

উল্লেখ্য, ভোটের প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘বিনামূল্যে’র প্রতিশ্রুতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিলেন বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়। আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, একে অন্যকে টেক্কা দিতে রাজনৈতিক দলগুলো যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তাতে আখেরে সরকারি রাজকোষের টাকার অপচয় হয়। এ ধরনের মনমোহনী ব্যবস্থা অর্থনীতিকে শেষ করে দেয়।

এর আগে বিষয়টিকে ‘গুরুতর সমস্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ ধরিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। জবাবে কমিশনের তরফে আদালতকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এ ধরনের প্রতিশ্রুতির ভালো-মন্দ বিচারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভোটারদের। এমনকী তা কোনো রাজ্যের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে কি না, সেটাও মাথায় রাখবেন তাঁরা।

এর আগের শুনানিতে কমিশনের জবাব নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি এনভি রমনার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। নির্বাচন কমিশন কী ভাবে এই বিষয়ে “হাত তুলে ফেলতে পারে” সে বিষয়েই জানতে চাওয়া হয়। এ ব্যাপারে কেন্দ্রকে অর্থ কমিশনের কাছে রিপোর্ট চাইতে বলে সর্বোচ্চ আদালত। রাজস্ব বরাদ্দ অর্থ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না, সেটাই জানতে বলা হয়। আদালতের মতে, এটাকে ভোটারদের ‘ঘুষ’ দেওয়ার সমার্থক হিসেবেই ধরে নেওয়া যেতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর তরফে এ ভাবে অপ্রয়োজনীয় বিনামূল্যের ঘোষণা অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

আরও পড়তে পারেন: 

২ সপ্তাহ পর আস্থাভোট চান নীতীশ-তেজস্বীরা, কী কারণে

দেশাত্মবোধক গান গেয়ে ‘বিশ্ব রেকর্ড’! জোর প্রস্তুতি রাজস্থানের এক কোটি স্কুল পড়ুয়ার

কয়লা পাচারকাণ্ডে এ বার রাজ্যের ৮ আইপিএস-কে তলব, দিল্লিতে ডেকে পাঠাল ইডি

১৪তম উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিলেন জগদীপ ধনকর

ঢাক বাজিয়ে গুড়-বাতাসা বিলি বিজেপির, কোথাও কোথাও নকুলদানা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন