‘অলস’ থেকে ‘অসম্ভব পরিশ্রমী’, কী ভাবে কর্নাটক পালটে দিল রাহুল গান্ধীকে

0
1507
rahul gandhi congress karnatakan

ওয়েবডেস্ক: ছ’মাস আগেও ছবিটা ছিল অন্য। কর্নাটকের কংগ্রেস নেতারা মনে করতেন রাহুল গান্ধী না এলেই কর্নাটকে ভালো ফল করবে কংগ্রেস। সেই মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। দলীয় নেতারা এখন অনেকেই মানছেন যে কর্নাটকে রাহুল গান্ধীর একটা হাওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের আগে তাঁকে আরও বেশি করে চাইছে রাজ্য নেতৃত্ব। কর্নাটকে একদম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি, দলীয় কর্মীদের ভরসাও জুগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

দলীয় কর্মীদের মতে গুজরাত নির্বাচনের পর থেকেই সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছেন রাহুল। এখন তিনি আরও বেশি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, সেই সঙ্গে অসম্ভব পরিশ্রমীও।

জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে প্রচারাভিযান শুরু রাহুলের। বল্লারি থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি। কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে রাহুলের সভায় এত ভালো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে সেটা তাঁরা ভাবতেও পারেননি।

বিজেপির নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে নিজের প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন রাহুল। সড়ক পথকেই বেশি ব্যবহার করছেন রাহুল। প্রচারের প্রথম দফায় বল্লারি থেকে গুলবর্গা পর্যন্ত চারশো কিলোমিটার রাস্তা বাসে পাড়ি দিয়েছিলেন রাহুল। এরই মধ্যে মাঝে দাঁড়িয়ে সভাও সেরেছেন তিনি। প্রথম দফার প্রচারে সাফল্য দেখে এই পন্থাই বেছে নিয়েছিল রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব।

ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার প্রচারে মহারাষ্ট্র ঘেঁষা কর্নাটকের লিঙ্গায়েত অধ্যুষিত সাত জেলায় প্রচার চালান তিনি। বেশিটাই পাড়ি দেন বাসে এবং মাঝেমধ্যে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছিলেন। এখানেও রাহুলের প্রচারসভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম দফাতেও ঠিক একই পন্থায় প্রচার চালিয়েছেন রাহুল।

রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি দীনেশ গুন্দুরাওয়ের মতে, রাহুল এখনও পর্যন্ত প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার সড়কপথে পাড়ি দিয়েছেন। দীনেশ বলেন, “রাহুলের পরিশ্রমের কোনো তুলনা নেই। দলের নেতা এবং কর্মীদের সমানে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। তিনি সামনে থেকে আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। যেখানেই তিনি প্রচার করছেন সেখানেই সাধারণ মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো দেখা যাচ্ছে।”

এখনও পর্যন্ত কর্নাটকের ২৫টা জেলায় সফর করে ফেলেছেন রাহুল। শনিবার এবং রবিবার আরও তিনটে জেলায় প্রচার করার কথা তাঁর। কংগ্রেসের কোনো সভাপতিই এত পরিশ্রম করেননি বলে কানাঘুষো সোনা যাচ্ছে দলের অন্দরে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি উত্তর কন্নড় এবং কদাগু জেলাতেও সফর করে ফেলেন তা হলে আর কোনো জেলাই বাকি থাকবে না তাঁর তালিকায়। কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে একটা রেকর্ডই করে ফেলবেন তিনি।

রাহুলের মন্দির-সফরও কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখনও পর্যন্ত কর্নাটক সফরে প্রায় এক ডজন বড়ো মন্দির এবং মঠ ঘুরে ফেলেছেন রাহুল। আগামী কয়েক দিনে আরও মন্দির ঘুরবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতার মতে, “বিজেপি খালি গুজব ছড়াচ্ছে যে রাহুল গান্ধী অলস, তিনি হিন্দুবিরোধী। কিন্তু রাহুল তাদের ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন। বিজেপি এবং আরএসএসের মিথ্যে ধরা পড়ে গিয়েছে। কংগ্রেস যে মানুষের সমর্থন পাচ্ছে তাতে তাদের ভিত নড়ে গিয়েছে।”

সমস্ত জেলা এবং ব্লকের কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গেও দেখা করছেন রাহুল। তাতেও অভিভূত জেলা এবং স্থানীয় স্তরের নেতারা। কংগ্রেসের এক জেলা সভাপতি তো বলেই দিলেন, “রাহুল এখন স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন, যেটা আগে কখনও করতেন না। আমরা খুব খোলাখুলি তাঁর সঙ্গে আলোচনা করি। তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলে তার পর নিজের সিদ্ধান্ত নেন।”

শনিবার এবং রবিবারও কর্নাটকেই পড়ে থাকবেন রাহুল। বেঙ্গালুরুর কাছে একগাদা সভা করার কথা তাঁর। এখন দেখার রাহুলের এই পরিশ্রমী ভাবমূর্তি কংগ্রেসের ভোটব্যঙ্ক কতটা বাড়াতে পারে।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here