মথুরা: বছর চারেক আগে তাঁর স্বামী এবং পুত্র মারা যান। তার পর ওড়িশা থেকে বছর ৪৫-এর ওই মহিলা চলে আসেন মথুরার রাধারানি শ্রীজির মন্দিরে। আশ্রয় নেন মন্দিরে। সাধ্বী হন। সেই রাধারানির মন্দিরে তাঁকে শিকার হতে হল গণধর্ষণের। ওই মন্দিরের দুই কর্মী তাঁকে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ।

ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে মন্দিরের নিরাপত্তাকর্মী কানহাইয়া ঠাকুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিলেছে সিসিটিভি ফুটেজও। রাজেন্দ্র ঠাকুর নামে আর এক অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। রাজেন্দ্র ওই মন্দিরের রাঁধুনি।

পুলিশকে ওই মহিলা জানিয়েছেন, ১১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। মন্দিরের কাজকর্ম সেরে প্রতিদিনকার মতো মন্দিরের বারান্দাতেই শুয়ে পড়েছিলেন সাধ্বী। রাত বাড়তেই ঘুমের মধ্যে মন্দিরের এক কর্মী এসে তাঁর মুখ চেপে ধরে। তার পর দুই কর্মী মিলে তাঁকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মন্দিরের বারান্দায় ওই মহিলা শুয়ে রয়েছেন। এক ব্যক্তি এসে তাঁর মুখ চেপে ধরছে।

ঘটনার পর দিনই বরসানা থানায় যান ওই মহিলা। কিন্তু পুলিশ প্রথমে তাঁর অভিযোগ নেয়নি। পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে চলে আসায় ঘটনার তিন দিন পরে অভিযোগ নেয় পুলিশ এবং মন্দিরে রাখা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

কিন্তু কেন প্রথমে অভিযোগ নিল না পুলিশ?

বরসানা থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই মহিলার ভাষা না বুঝতে পারার কারণে অভিযোগ নেওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: অযোধ্যা মামলার ‘শেষ’ মূল মামলাকারী মহন্ত ভাস্কর দাস প্রয়াত 

প্রশ্ন হল, অনেক সময় অভিযোগকারীর ভাষা বুঝতে না পারার কারণে দোভাষীর সাহায্য নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তা কেন করা হল না। পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

মথুরার এসএসপি স্বপনীল ম্যানগায়েন জানিয়েছেন, মহিলার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁর ভাষা বোঝার জন্য দোভাষীর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ সত্যি হলে তদন্ত করে দেখা হবে ।

দুই অভিযুক্তকেই বরখাস্ত করেছে মন্দির কমিটি।

ছবি: অমর উজালা

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here