ghulam nabi azad
গুলাম নবি আজাদ

নয়াদিল্লি: শুক্রবার কংগ্রেস ছেড়েছেন প্রবীণ নেতা গুলাম নবি আজাদ (Ghulam Nabi Azad)। মঙ্গলবার দলের তিন শীর্ষ নেতা দেখা করলেন তাঁর সঙ্গে। জি-২৩ (G-23) বা দলে ভিন্নমতের গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে পরিচিত আনন্দ শর্মা, পৃথ্বীরাজ চৌহান এবং ভূপিন্দর হুদা এ দিন আজাদের সঙ্গে দেখা করেন।

সূত্রের খবর, তিনি নেতা এ দিন দিল্লিতে আজাদের বাড়িতে যান। তাঁদের প্রথম প্রশ্ন ছিল, কেন তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই পদত্যাগ করলেন আজাদ। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ জানতে চান, সোনিয়া গান্ধী নতুন কংগ্রেস সভাপতির জন্য অভ্যন্তরীণ নির্বাচন ঘোষণা করার পরেও কেন তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন। সূত্রটির দাবি, কংগ্রেসের একটি অংশের বিরুদ্ধে “ষড়যন্ত্রের” অভিযোগ তুলেছেন আজাদ।

ইতিমধ্যেই আজাদ বলেছেন তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে একটি দল গড়তে চলেছেন। এই ঘোষণা জম্মু ও কাশ্মীর কংগ্রেসে দল ছাড়ার হিড়িক তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রশাসিত ওই অঞ্চলের শতাধিক কংগ্রেস নেতা দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তারা চন্দ এবং প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার গুলাম হায়দর মল্লিক। সবমিলিয়ে প্রায় ৬৪ জন সিনিয়র কংগ্রেস নেতা আজাদের সমর্থনে আজ পদত্যাগ করেছেন।

এখানেই শেষ নয়, আমিন ভট, গুলজার আহমেদ ওয়ানি, মহম্মদ আক্রমের মতো প্রভাবশালী প্রাক্তন বিধায়কেরাও কংগ্রেস ছেড়ে আজাদের নয়া দলে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দলে উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক সমস্যার কথা তুলে ধরে গত ২০২০ সালের আগস্টে সোনিয়াকে চিঠি দেন প্রবীণ এবং নবীন মিলে কংগ্রেসের ২৩ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা। “বিদ্রোহী” গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতদের মধ্যে শশী তারুর, মনীশ তিওয়ারি এবং মুকুল ওয়াসনিকের মতো নেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কংগ্রেসে ব্যাপক সাংগঠনিক পরিবর্তনের দাবিতে সবর হয়ে ছিলেন তাঁরা। ধারণা করা হয়, দলের আরেকজন বিশিষ্ট নেতা কপিল সিবল মে মাসে এই ঘটনার জেরেই দল ছেড়েছিলেন।

রবিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের সভাপতি নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার তারিখ ২৪-৩০ সেপ্টেম্বর। ১ অক্টোবর মনোনয়ন যাচাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ অক্টোবর। নির্বাচন আগামী ১৭ অক্টোবর। ১৯ অক্টোবর ভোটগণনা।

এখন, দলীয় নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন পৃথ্বীরাজ এবং তারুরের মতো নেতারা। তাঁদের মতে, দলের সভাপতি পদের জন্য নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া উচিত।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন