বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ প্রমাণিত হলে ইস্তফা দেব, বললেন গুলাম নবি আজাদ

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দলীয় নেতৃত্বের পরিবর্তন চেয়ে ২৩ জন কংগ্রেস (Congress) নেতা চিঠি দেওয়ায় বেজায় চটেছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সূত্রের খবর, তিনি বলেছেন, ওই নেতাদের সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশ রয়েছে।

রাহুলের এই মন্তব্যে রীতিমতো ক্ষুব্ধ গুলাম নবি আজাদ (Ghulam Nabi Azad)। তিনি বলেছেন, বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ যদি প্রমাণিত হয়, তা হলে তিনি ইস্তফা দেবেন।

ওই চিঠির অন্যতম স্বাক্ষরকারী কপিল সিবল (Kapil Sibal) খুব চটে যান। চটে গিয়ে তিনি রাহুলকে ঠেস দিয়ে টুইটও করেন। পরে সিবল বলেন, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে জানিয়েছেন, তিনি ‘বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ’ থাকার কথা বলেননি। তাই তিনি তাঁর টুইট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

চিঠিতে কী ছিল

দলের এক জন পূর্ণ সময়ের সভাপতি চেয়ে সনিয়া গান্ধীকে যে ২৩ জন কংগ্রেস নেতা চিঠি দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কপিল সিব্বল, শশী তারুর, গোলাম নবি আজাদ, পৃথ্বীরাজ চবন, বিবেক তনখা এবং আনন্দ শর্মার মতো বেশ কয়েক জন প্রবীণ নেতা।

চিঠিতে বলা হয়, এমন এক জনকে দলের শীর্ষপদে দায়িত্ব দিতে হবে যিনি সকলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন। ২৪ ঘণ্টা বিপদে-আপদে সকলের পাশে থাকবেন। এমনই কাউকে পূর্ণ মেয়াদের সভাপতিত্বের জন্য নির্বাচিত করা হোক।

সূত্রের খবর, সোমবারের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল জানতে চান, তাঁর মা যখন অসুস্থ ছিলেন আর দল যখন রাজস্থানের সংকট সামাল দিচ্ছিল, কেন তখনই এই চিঠি সনিয়ার কাছে পাঠানো হয়। যাঁরা চিঠি দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাত রয়েছে বলে রাহুল অভিযোগ করেন।

কী বললেন গুলাম নবি আজাদ  

গুলাম নবি আজাদ সোমবারের বৈঠকে চিঠির বিষয়বস্তু পড়ে শোনান। তিনি বলেন, দলের নেতারা সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছেন না। দলের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা সাংগঠনিক সংস্কার চেয়েছেন মাত্র।

চিঠিটি পড়তে পড়তে গুলাম নবি আজাদ জানতে চান, চিঠির কোন অংশে সনিয়া বা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করা হয়েছে।

আজাদ বলেন, তিনি কখনোই সনিয়া গান্ধীকে হেয় করতে পারেন না বা কংগ্রেসে নেহরু-গান্ধী পরিবারের অবদান অস্বীকার করতে পারেন না।

আজাদ তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় দল গড়ে তোলা এবং ২০০৪-এ দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে সনিয়া গান্ধীর কঠোর পরিশ্রমের কথা বলেন। বলেন, এটা একটা রেকর্ড এবং কারও কাছ থেকে এর বৈধতা পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

“যে পরিবর্তন দাবি করা হয়েছে, তা পুরোপুরিই সাংগঠনিক। সনিয়া গান্ধী অন্তর্বর্তী প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের ব্যাপক মেরামতি চেয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই দলে পরিবর্তন দাবি করা হয়েছে”, বলেন আজাদ।

আজাদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন তিনি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন, তা হলে দল থেকে ইস্তফা দেবেন এবং রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

“আমার বিকল্প খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করুন” কংগ্রেসকে বললেন সনিয়া গান্ধী

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন