ওয়েবডেস্ক: বিশাখাপত্তনম গ্যাস লিককাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েক হাজার। কেন্দ্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারে উদ্যোগে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের কাজ চলছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা আধিকারিক জানিয়েছেন, প্ল্যান্টের দু’টি স্টাইরিন ট্যাঙ্কের সঙ্গে সংযুক্ত রেফ্রিজারেশন ইউনিটে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে জেলাশাসক ভি বিনয় চন্দ জানান, “এলজি পলিমার্স লিমিটেডের লিক হওয়া গ্যাসের তীব্রতা ছিল প্রচুর। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পুরো ঘটনাটা আমরা বুঝতে পারি। গোটা এলাকা গাঢ় কুয়াশায় (গ্যাস) ঢেকে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে তা সরে যায়”।

Loading videos...

বিশাখাপত্তনমে ভয়াবহ গ্যাস দুর্ঘটনার (Visakhapatnam gas leakage) তদন্তে ফরেনসিক বিভাগের প্রাথমিক রিপোর্টের সূত্র ধরে তিনি বলেন, “স্টাইরিন মনোমর (Styrene monomer) সাধারণত তরল অবস্থায় থাকে। এই অবস্থা নিরাপদ। ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচের তাপমাত্রায় এটা তরল অবস্থায় থাকতে পারে। কিন্তু রেফ্রিজারেশন ইউনিটের ত্রুটির কারণে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে”।

তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, প্রযুক্তিগত কারণে কেমিক্যাল স্টোরেজের ট্যাঙ্কের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর চলে গেলে গ্যাসিফিকেশন এবং স্টাইরিনের বাষ্পীভবন হতে শুরু করে।

প্রসঙ্গত, এ দিন সকালে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে একটি শিশু-সহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সঙ্গে ওই প্ল্যান্টের কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্ল্যান্ট থেকে পাঁচ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: রাসায়নিক বিপর্যয়! বিশাখাপত্তনমে গ্যাস লিকে মৃত বেড়ে ১১, অসুস্থ তিন হাজার

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্টাইরিন গ্যাস খুবই ক্ষতিকর। এই গ্যাসের প্রভাবে তাৎক্ষণিক ভাবে স্নায়ুতন্ত্র বিকল হয়ে যায়। তবে এর বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবও রয়েছে। এই বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে সম্পূর্ণ ভাবে স্নায়ুতন্ত্র বিকল হওয়া থেকে শুরু করে ক্যানসারের শিকার পর্যন্ত হতে পারেন আক্রান্ত। একই সঙ্গে মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, কানে কম শোনা-সহ অন্যান্য রোগেরও শিকার হতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.