স্ত্রী অসুস্থ। বিশেষ ভাবে সক্ষম মেয়ে। তাকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ এক রোবট বানিয়ে ফেলেছেন গোয়ার এক দিনমজুর। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, কোনো রকমের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াই এই রোবট তৈরি করেছেন তিনি। যেটা অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই খাবার খাইয়ে দিতে পারে অনায়াসে।

‘মা রোবট’-এর উদ্ভাবক বিপিন কদম

এমনই এক অসাধ্যসাধন করেছেন পেশায় দিনমজুর বিপিন কদম। তাঁর এই উদ্ভাবনের প্রশংসা করেছে গোয়া স্টেট ইনোভেশন কাউন্সিল। আর নেটিজেনদের কাছ থেকে পাচ্ছেন অকুণ্ঠ ধন্যবাদ।

বিপিনের এই উদ্ভাবনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মা রোবট’ (Maa Robot)। এই মেশিনের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর জন্য তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে কাউন্সিল। এর বাণিজ্যিক কার্যকারিতা অন্বেষণের জন্য তাঁকে আর্থিক সহযোগিতাও দেওয়া হয়েছে।

কী ভাবে কাজ করে ‘মা রোবট’

রোবটের একটি অংশে রয়েছে প্লেট। সেখানেই রাখা হয় খাবার। রোবটের একটি অংশ (হাত) সেই খাবার নির্দেশ মতো মেয়েটির মুখে তুলে দেয়। তবে আশ্চর্যজনক বিষয়টি হল ভয়েস কম্যান্ড। মেয়েটি কী খেতে চায়, তা জানালে ভয়েস কম্যান্ড অনুযায়ী সবজি, ডাল মাখা ভাত বা অন্য পদ অনায়াসেই মুখে তুলে দিতে পারে মা রোবট। এখানে মেয়েটি নিজের হাত নাড়াতে বা তুলতে পারে না।

কী ভাবে তৈরি হল এই রোবট

দক্ষিণ গোয়ার পোন্দা তালুকের বেথোরা গ্রামের বাসিন্দা বছর চল্লিশের বিপিন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর কাছে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের বয়স ১৪ বছর। সে বিশেষ ভাবে সক্ষম। প্রায় দু’বছর হল তাঁর স্ত্রীও অসুস্থ। শয্যাশায়ী। ফলে মেয়েকে খাবার খাইয়ে দিতে পারেন না তিনি। ও দিকে বিপিনকেও নিজের কাজে চলে যেতে হয়। তা হলে উপায়?

স্ত্রীর কান্নাকাটি আর মেয়ের অবস্থা দেখে কিছু একটা পথ খুঁজে বার করার চেষ্টা শুরু। এমন কোনো যন্ত্র আছে কি, যেটা কাউকে খাইয়ে দিতে পারে? খোঁজ শুরু করেন বিপিন। শোনা যায়, রোবট না কি অনেক কাজই করতে পারে। কিন্তু তাঁর কাজ করতে পারে, এমন একটাও মেলেনি। বিপিন বলেন, “এমন কোনো রোবট কোথাও পাওয়া যায়নি যেটা খাইয়ে দিতে পারে। তাই, আমি নিজেই এটা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি”।

খবর অনলাইনে আরও পড়ুন:

অশোক গহলৌতের পর রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলট? জোর দ্বন্দ্ব

সফটওয়্যারের মূল বিষয়গুলি শিখতে অনলাইন তথ্য ঘাঁটাঘাঁটি শুরু। কোনো বিরতি ছাড়াই ১২ ঘণ্টার কাজ। তার পরে বাকি সময়ে কী ভাবে রোবট বানানো যায়, সে সব নিয়েই গবেষণা। বিপিন বলেন, “আমি টানা চার মাস ধরে গবেষণা করেছি। তার পরে এই রোবটের ডিজাইন করি। ভয়েস কম্যান্ড মেনে চলে এই রোবট। এখন কাজ থেকে ফিরে এসে মেয়েকে হাসতে দেখে নতুন করে জীবন ফিরে পাই”।

লক্ষ্য আরও অনেক দূর

অন্য শিশুদের জন্যও একই ধরনের রোবট তৈরি করতে চান বিপিন। তাঁর কথায়, “আমি এই রোবটকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে যেতে চাই”। আর এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে গোয়া স্টেট ইনোভেশন কাউন্সিল। কী ভাবে এতে আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করা যায়। বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতেই আর্থিক সহযোগিতা করেছে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন