Mann Ki Baat

নয়াদিল্লি : পৃথিবীতে তো এত প্রাণী আছে। কিন্তু কাউকে নিয়ে তো এত পরিকল্পনা, জল্পনা-কল্পনা, বা জলঘোলা হয় না! তা হলে শুধু গরু নিয়েই কেন? গরু, গো-মূত্র, গোবর এই সব নিয়ে যেন লেজে গোবরে অবস্থা সরকারেরও। এর আগে কোটি কোটি টাকার গোবর কেনার কথা ঘোষণা করেছে রেলমন্ত্রক। কেন? না, তা দিয়ে তৈরি হবে বায়ো-টয়লেট। তার পর এখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ বলছেন গোবর-ধন যোজনার কথা।

সদ্য হয়ে যাওয়া এই অনুষ্ঠানে তিনি বায়োগ্যাস তৈরির জন্য গোবর কেনা, গোবর সঞ্চয়ের কথা তুলে ধরলেন। তিনি বলেন, সরকার গোবরের ওপর জোর দিচ্ছে। সরকার চাইছে বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করা হোক। এটাও স্বচ্ছ ভারত অভিযানের একটা অঙ্গ। উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা যেন সমবায়-সমিতি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ার কাজে এগিয়ে আসেন। সাধারণ মানুষকেও গ্রামের সম্পদকে অর্থাৎ গোবরকে গোবর-ধনে পরিণত করার কাজে হাত মেলাতে বলেন।

আরও পড়ুন : ৪২ কোটি টাকার গোবর কিনবে রেল!

গোবর-ধন যোজনা আসলে কী?

গোবর অর্থাৎ জিওবিএআর হল গ্যালভানাইজিং অরগানিক বায়ো অ্যাগ্রো রিসোর্স। এদের উদ্দেশ্য হল গ্রামের সম্পদ গোবর ও অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মল আর আনাজপাতির খোলা ইত্যাদিকে শক্তি উৎসে পরিণত করা। এতে গ্রাম স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হবে। দেশের মধ্যে একটা শক্তিশালী শক্তি-উৎসও গড়ে তোলা যাবে। কারণ ভারতে সব থেকে বেশি গৃহপালিত পশু রয়েছে। হিসেব অনুযায়ী ৩০ কোটি। আর পশুদের প্রাত্যহিক মলের পরিমাণ ৩০ লক্ষ টন। তাই এই বিপুল পরিমাণ উপাদানকে কাজে লাগাতে হবে। এমনটা করা হয় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে ও চিনেও।

এই যোজনা কৃষকদের উৎসাহিত করবে। তাঁরা আনাজপাতির বর্জ্য, পশুর মল ইত্যাদি বা রান্নাঘরের বর্জ্য ফেলে না দিয়ে এই কাজে লাগাতে সাহায্য করবেন। এই ব্যবস্থা কৃষকদের আয়ের উৎস হয়ে উঠবে। গ্রাম যেমন পরিচ্ছন্ন থাকবে তেমন গ্রামবাসীদেরও অনেক দিক থেকে সুবিধে হবে। কারণ এই যোজনা বর্জ্য সংগ্রহ, বহন, শক্তি উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচুর কর্মসংস্থান গড়ে তুলবে। তা ছাড়াও অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে কৃষকদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হবে। তাতে তাঁরা ন্যায্য মূল্যে এই বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।

দেখা যাক, এই গোবর-ধন যোজনায় কতটা এগিয়ে যায় দেশ!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here