হরিদ্বার : সাধুর গলায় সাড়ে চোদ্দ কিলোর সোনা। তাতে রয়েছে ২১টা চেন আর ২১টা লকেট। তার মধ্যে নতুনটির ওজনই দু’ কেজি। তা ছাড়া হাতে রয়েছে ভারী গয়না। এতো গেল পরনের খবর। তবে যা তিনি সব সময় পরেন না, মাঝে মাঝে পরেন তা হল সোনার জ্যাকেট। বাবাজির ধন সম্পত্তির তালিকাটা এখানেই শেষ নয়। তাঁর হাতে রয়েছে ২৭ লক্ষ টাকার একটা রোলেক্স ঘড়ি। রয়েছে এসইউভি, একটা বিএমডব্লিউ, তিনটে ফরচুন, দু’টো অডি আর দু’টো ইনোভা-সহ মোট ১৬টি গাড়ি। সাধুর নাম সুধীর মক্কর। কন্বর যাত্রার গোটা পথটায় তিনি ‘গোল্ডেন বাবা’ নামে খ্যাত। যাত্রীদের কাছে শ্রী মহান্তজি গোল্ডেন পুরি বাবাজি মক্কর নামেও বিশেষ পরিচিত। তাঁর গয়না পাহারা দেওয়ার জন্য আছে নিরাপত্তা রক্ষী আর পুলিশবাহিনী।

৫৫ বছরের বাবাজি বলেন, তাঁর সোনা আর গাড়ির সখ। প্রথম থেকেই তিনি এমন ছিলেন না। প্রথমে তিনি খুবই গরিব ছিলেন। তিনি হরিদ্বারে পথের ধারে জপের মালা আর কাপড় বিক্রি করতেন। ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসা বাড়তে থাকে। দিল্লির গান্ধীনগর মার্কেটে তিনি বিট্টু ব্র্যান্ডের জিন্স, শার্ট, জ্যাকেট বিক্রি করতে শুরু করেন। তার সঙ্গে সম্পত্তি বেচাকেনার ব্যবসাও শুরু করেন। ভগবান শিবের কৃপায় দু’টি ব্যবসাই ক্রমশ উন্নতি করতে থাকে। এখন গাজিয়াবাদের ইন্দ্রপুরমে তাঁর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এখন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ১৯৭২-৭৩ সালে ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ২০০ টাকা। তখন তিনি মাত্র ৪০ গ্রাম সোনা কিনতে পেরেছিলেন। এখন তাঁর কাছে এতো সোনা। এই সোনা তিনি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত পরেই থাকবেন। কিন্তু তিনি চাইলেও বেশি সোনা পরতে পারেন না। সোনার ওজন তাঁর ঘাড়ের স্নায়ুতে সমস্যা তৈরি করছে। তা ছাড়া ভারী ওজনের জন্য দেখতেও সমস্যা হচ্ছে। তিনি পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সময় তাঁর বিশ্বস্ত শিষ্যের কাছে সমস্ত সোনা আর সম্পত্তি দিয়ে যাবেন।

তিনি জানান, ৬ বছর বয়সে গুরুকুলে থাকার সময় থেকে তিনি কন্বর যাত্রা করছেন। ২০১৮ সালেই তিনি শেষবার কন্বর যাবেন। ওটাই সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ।

হরিদ্বার থেকে দিল্লির এই ২০০ কিলোমিটার পথে বহু যাত্রীই এই গোল্ডেন বাবার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে, দেখা করে, পায়ের ধুলো নিয়ে এমনকি সেলফি তুলেও পুণ্য অর্জন করতে চান তীর্থযাত্রীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন