coronavirus vaccine update

নয়াদিল্লি: বিশ্ব জুড়ে চলছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির জোরালো প্রস্তুতি। একই সঙ্গে ভারত সরকারও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০ কোটি মানুষ, বিশেষত করোনার ঝুঁকি রয়েছে এবং বয়স্ক, এমন গোষ্ঠীকে শনাক্ত করছে। করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হাতে এলেই এঁদের জন্য বিনামূল্যে করোনার টিকা জোগাবে কেন্দ্র।

এই অতিমারির যুদ্ধে যাঁরা একেবারে সামনে থেকে লড়াই করছেন- যেমন স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, নিকাশিকর্মী এবং কো-মর্বিডিটি রয়েছে এমন বয়স্ক মানুষেরা টিকাকরণে অগ্রাধিকার পাবেন।

এক বার ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন মিলে গেলেই টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে। এর মধ্যে বুস্টার ডোজ-ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তালিকাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মী: ৫০-৭০ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী (আনুমানিক এমবিএসএস চিকিৎসক+আয়ুশ অনুশীলনকারী: প্রায় ২০ লক্ষ, নার্স: ১৫ লক্ষ, এএনএম: ৭ লক্ষ, আশাকর্মী: ১০ লক্ষ, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পেশাদার: ৭-৮ লক্ষ)

সামনের সারির কর্মী: পুলিশ, পুরসভার কর্মী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য-সহ দু’কোটির বেশি সামনের সারির কর্মী (আনুমানিক ৪৫ লক্ষ পুলিশকর্মী, ১.৫ কোটি পুরসভার কর্মী, ১৫ লক্ষ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য)

৫০ বছরের বেশি বয়সি: ৫০ বছরের বেশি বয়স্ক ২৬ কোটি

৫০ বছরের কম অথচ কো-মর্বিডিটিযুক্ত: কো-মর্বিডিটি রয়েছে অথচ ৫০ বছরের কম বয়সিদের এমন একটি বিভাগ (ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনির স্থায়ী সমস্যা, ফুসফুসের রোগ, ক্যানসার এবং লিভারের অসুখ)

জানা গিয়েছে, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ এই জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক ভাবে আনুমানিক ৬০ ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন।

ভারতে এখন সম্ভাব্য তিনটি করোনা ভ্যাকসিনের মানব শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি নিয়ে ভারতে পরীক্ষা চালাচ্ছে পুনে-ভিত্তিক সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট। এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় অথবা চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, নভেম্বর মাসের শেষ অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে এই ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ফলাফল হাতে চলে আসতে পারে।

সরকারি ভাবে করোনা ভ্যাকসিন তদারকিতে যুক্ত প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ কমিটি সমস্ত দিক বিচার করে দেশে করোনার প্রতিষেধক দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতির রূপরেখা তৈরি করছে। নীতি আয়োগের সদস্য ডা. ভিকে পালের নেতৃত্বাধীন এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণের সহ-সভাপতিত্বে ওই কমিটিই টিকাকরণের রূপরেখা তৈরি করছে। ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে যাতে সর্বত্র সমান এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পাওয়া যায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখেই পদ্ধতি নির্ধারিত হবে।

ভারতের ৩টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন

*হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেকের তৈরি ‘কোভ্যাক্সিন’ (Covaxin)।

*অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় ভারতীয় সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট (SII)-এর তৈরি ভ্যাকসিনের ভারতীয় নাম ‘কোভিশিল্ড’ (Covishield)।

*জাইডাস ক্যাডিলার (Zydus Cadila) তৈরি ভ্যাকসিনের নাম জাইকোভ-ডি (ZyCoV-D)।

আরও পড়তে পারেন: কোভিড ১৯ টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু, কবে, কোথায় মিলবে ভ্যাকসিন জানানো হবে এসএমএস-এর মাধ্যমে

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন