পণ্য ও পরিষেবা কর বিল (জিএসটি) আইনে পরিণত হওয়ার পথ প্রশস্ত হল। বুধবার রাজ্যসভায় ১২২তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হল। একমাত্র এডিএমকে বিলের বিরোধিতা করে কক্ষত্যাগ করে। বিলে ছ’টি সংশোধনী আনা হয়। সবগুলিই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। রাজ্যসভায় গৃহীত সংশোধনীগুলি বিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এটি আবার লোকসভায় ফিরে যাবে। তার পর এই সংবিধান সংশোধনী বিল অর্ধেক রাজ্য বিধানসভায় অনুমোদন করাতে হবে।  বুধবার রাজ্যসভায় এই বিল পাশ করাতে গিয়ে সরকার পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ‘করের পরিমাণ যতটা সম্ভব কম রাখা হবে’। পণ্য ও পরিষেবা কর আইনের উদ্দেশ্য হল দেশ জুড়ে একক করব্যবস্থা চালু করা। এই আইন কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় উৎপাদন শুল্ক, রাজ্যের ভ্যাট/ বিক্রয়কর সহ সমস্ত পরোক্ষ কর পণ্য ও পরিষেবা করের আওতায় চলে আসবে।   

দেশ জুড়ে একক করব্যবস্থা চালু করার জন্য দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীমহল দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন। দেশে বহমুখী করব্যবস্থা চালু থাকার ফলে খরচা অনেক বেড়ে যায়, বিশেষ করে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য পরিবহণ করার খরচা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একক করব্যবস্থা চালু হলে দেশে উন্নতির হার ২ শতাংশ বাড়বে।

গত দু’ বছর ধরে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস জিএসটি বিলের বিরোধিতা করে আসছিল। কিন্তু বুধবার সরকার তাদের দাবিমতো বিলে ছ’টি পরিবর্তন করলে কংগ্রেস বিলে আর আপত্তি করেনি। কংগ্রেসের দাবি ছিল ১% ম্যানুফ্যাকচারিং কর কমাতে হবে এবং জিএসটি চালু হলে রাজ্যগুলির পাঁচ বছরে যে ক্ষতি হবে তা পুষিয়ে দেওয়ার কথা বিলে স্পষ্ট করে বলতে হবে।

রাজ্যসভায় সাত ঘণ্টা ধরে বিতর্ক চলার সময়ে বেশির ভাগ দল পণ্য ও পরিষেবা করের হার ১৮ শতাংশে বেঁধে রাখার দাবি করেন। বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই কর পরিষেবার মূল নীতি হল, ‘করের হার যতটা সম্ভব কম রাখা, আজ যে হার আছে, তার চেয়ে অবশ্যই কম।”

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার পর দেশের করব্যবস্থায় এত বড়ো সংস্কার আগে কখনও হয়নি। জিএসটি চালু হয়ে গেলে কেন্দ্র ও ২৯টি রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ কর ও লেভি লোপ পেয়ে দেশে একটিই কর চালু থাকবে।             

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here