নয়াদিল্লি: ছোটো ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের রিটার্ন জমা দেওয়া ও কর দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা দেওয়া, রফতানিকারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম সহজ করা এবং ২৭টি পণ্যে করের হার কমানো – জিএসটি জমানা শুরু হওয়ার তিন মাস পর বেশ কিছু পরিবর্তন আনল জিএসটি পরিষদ। শুক্রবার পরিষদের তরফ থেকে এ সব সংক্রান্ত এক গুচ্ছ ঘোষণা করা হয়।

পরিষদের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, “জিএসটি শুরু হওয়ার পর প্রায় তিম মাস হতে চলল। প্রথম দু’ মাসের রিটার্ন জমা পড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসার ক্ষেত্রে এর কী প্রভাব পড়ছে তা নিয়ে পর্যালোচনা করার এটাই সময়।”

করের হার কমানো

২৭টি পণ্যে জিএসটি-র হার কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জেটলি জানান।

ব্র্যান্ডেড নয় এমন নিমকি ও আয়ুর্বেদ ওষুধ, শুকনো কাটা আম এবং খাকরার ওপর জিএসটি ১২% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে। টেক্সটাইল সেক্টরে মানুষের বোনা সুতোর ওপর জিএসটি ১৮% থেকে কমিয়ে ১২% করা হয়েছে।

স্টেশনারি দ্রব্য, মার্বেল ও গ্রানাইট ছাড়া মেঝে করার অন্যান্য সামগ্রী এবং ডিজেল ইঞ্জিন ও পাম্পের যন্ত্রাংশে জিএসটি ২৮% থেকে কমিয়ে ১৮% করা হয়েছে। ই-বর্জ্যের ওপর জিএসটি ২৮% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে।

সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্পের (আইসিডিএস) অধীনে স্কুলের শিশুদের খাবারের যে প্যাকেট দেওয়া হয় তাতে জিএসটি ১২%-এর জায়গায় ৫% করা হয়েছে।

জরি, ইমিটেশন, খাদ্য সামগ্রী ও ছাপার সামগ্রী নিয়ে যে কাজ হয় তাতে কর দিতে হবে ১২%-এর জায়গায় ৫%।

আরও পড়ুন : সুরের জগতেও ‘জাতীয়তাবাদ’, ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে ভায়োলিন, পিয়ানোর মতো বাদ্যযন্ত্রে বসেছে জিএসটি 

ছোটো ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে

জেটলি বলেন, ৭২ লক্ষ করদাতা জিএসটি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নতুন করব্যবস্থায় এসেছে ২৫-২৬ লক্ষ নতুন করদাতা। এঁদের মধ্যে বেশির ভাগেরই ব্যবসার টার্নওভার এক কোটি টাকার কম। এঁদের করের বোঝা অনেক কম, কিন্তু এ ব্যাপারে হ্যাপা অনেক বেশি। তাই পরিষদ ছোটো ব্যবসার ক্ষেত্রে কমপোজিশন স্কিমের সীমা ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত করেছে।

মোট করদাতার ৯০ শতাংশই এমন যাঁদের টার্নওভার দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত। অথচ মোট যা কর আদায় হয় তার ৫%-৬% এখান থেকে আসে। এই সব ব্যবসার ক্ষেত্রে মাসিকের বদলে ত্রৈমাসিক রিটার্ন জমা করা যাবে। এবং এই পরিবর্তন করা হবে অক্টোবর থেকে। সুতরাং জিএসটি চালু হওয়ার পর প্রথম তিন মাসের জন্য তাঁদের মাসিক রিটার্ন জনা দিতে হবে।

রফতানিকারীদের জন্য

বিশ্বব্যাপী মন্দার জন্য আর্থিক বৃদ্ধিতে শ্লথতা এসেছে। এই পরিস্থিতিতে রফতানিকারীরা রফতানির ওপর ইতিমধ্যেই যে কর প্রদান করেছেন তা দ্রুত রিফান্ড করার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত করেছে জিএসটি করেছে। ঠিক হয়েছে জুলাইয়ের রিফান্ড ১০ অক্টোবরের মধ্যে এবং আগস্টের রিফান্ড ১৮ অক্টোবরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে। বাকি অর্থবর্ষের জন্য তাঁরা নামমাত্র ০.১% জিএসটি দিয়ে একজেমটেড ক্যাটেগরি হিসাবে কাজ করতে পারবেন।

জেটলি জানান, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসাবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে চালু করা হবে ই-ওয়ালেট ব্যবস্থা। প্রত্যেক রফতানিকারীর জন্য থাকবে এই ই-ওয়ালেট। সেই ওয়ালেটে কিছুটা অর্থ আগাম জমা থাকবে। পরে ওই অর্থের সঙ্গে রিফান্ডের পরিমাণটি অ্যাডজাস্ট করে দেওয়া হবে।

জিএসটি সংক্রান্ত সব খবর পড়ুন

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here