ওয়েবডেস্ক: সর্দার সরোবর বাঁধ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বের ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জগতে এটি একটি অসাধারণ কীর্তি।

আসুন জেনে নেওয়া যাক বাঁধটির বিষয়ে কয়েকটা কথা ——–

১) বাঁধ তৈরিতে ব্যবহৃত মালমশলার নিরিখে এটি সর্ববৃহৎ। তা ছাড়া এটা দেশের মধ্যে তৃতীয় উচ্চতম কংক্রিট বাঁধ।

২) ১.২ কিলোমিটার লম্বা ও ১৬৩ কিলোমিটার গভীর এই বাঁধ। দু’টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এই পর্যন্ত ৪১৪১ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।

৩) সরকারের মুখপাত্র বলেন, বাঁধ থেকে আয় হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এই বাঁধ নির্মাণে যা খরচ হয়েছে তার দ্বিগুণ টাকা উঠে এসেছে।

৪) বাঁধের এক একটা দরজার ওজন ৪৫০ টন। এই দরজা বন্ধ করতে সময় লাগে এক ঘণ্টা।

৫) এই বাঁধে উৎপন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে গুজরাট ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত এই তিনটি রাজ্যে। উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫৭% ব্যবহার করা হবে মধ্যপ্রদেশে। বিদ্যুৎ-এর ২৭% যাবে মহারাষ্ট্র ও ১৬% গুজরাতে।

৬) সম্প্রতি এই বাঁধকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসীরা। বাঁধের জলস্তর বেড়ে নীচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তাই বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল এই বাঁধের দরজা খুলে দেওয়া হোক।

৭) এই বাঁধের ফলে মধ্যপ্রদেশের বারওয়ানি আর ধার এলাকার নীচু অংশে জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীর দাবি ছিল এই বাঁধের ফলে ক্ষতি হবে ১৯২টা গ্রামের ৪০ হাজার পরিবারের। সেখানে সরকার পক্ষের দাবি, এর প্রভাব পড়তে পারে ১৮৩৮৬টা পরিবারের ওপর।

৮) বাঁধের নতুন দরজা তৈরির পর এর উচ্চতা ১৩৮.৬৮ মিটার হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমস্ত দিক যাচাই করেই নর্মদা বাঁচাও সংগঠন রাজ্য সরকারকে বাঁধের উচ্চতা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে।

৯) নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের নেত্রী মেধা পটকর এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশের ভারসাম্য আর পুনর্বাসনের বিষয়ে অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এই নির্মাণ কাজে স্থগিতাদেশ জারি করে। পরে অবশ্য ২০০০ সালে আবার কাজ শুরু করার অনুমতি দেয় শীর্ষ আদালত।

১০) উচ্চতা বাড়ার পর এই বাঁধে ৪৭৩ লক্ষ একর ফুট জল ধরে রাখা সম্ভব।

১১) গুজরাত কংগ্রেসের দাবি, ২২ বছর ধরে বিজেপির শাসন থাকা সত্ত্বেও কাজ এখনও শেষ হয়নি। এখনও বাঁধের ৪৩ হাজার কিলোমিটার লম্বা এলাকার কাজ বাকি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন