gujarat elections

ওয়েবডেস্ক: গুজরাতের প্রথম দফার নির্বাচন শেষ। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত যেন পাকিস্তানের ‘শরণাপন্ন’ হচ্ছে শাসক দল। ভোট জিততে পাকিস্তানের সঙ্গে কংগ্রেসের ‘সু-সম্পর্ককে’ হাতিয়ার করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কখনও বলছেন মনমোহন সিংহ-এর তত্ত্বাবধানে মণিশঙ্কর আয়ারের সঙ্গে পাকিস্তানের গোপন বৈঠক হয়েছে মোদীকে গদি থেকে সরানোর জন্য, তো কখনও বলছেন আহমেদ পটেলকে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরতে মদত দিচ্ছে পাকিস্তান।

নিজেদের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে বারবার পাকিস্তানের প্রসঙ্গে টেনে আনা যে তারা ভালো ভাবে নিচ্ছে না সে কথা বুঝিয়ে দিল পাকিস্তান। ও-পার থেকে কড়া বার্তা। সোমবার সে দেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফৈজল টুইট করে জানান, “নিজেদের নির্বাচনী বিতর্কে বারবার পাকিস্তান প্রসঙ্গে টেনে আনা বন্ধ করে নিজেদের ক্ষমতাতেই নির্বাচন জিতে দেখাক ভারতের দলগুলি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

এ দিকে মণিশঙ্কর আয়ারের পর গুজরাতের নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং সার্জিকাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গেও ‘পাকিস্তান’ প্রসঙ্গ নিয়ে আসেন নরেন্দ্র মোদী। একটি জনসভায় মোদী অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা আহমেদ পটেলকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য পেছন থেকে সমর্থন দিচ্ছে পাকিস্তান।

২৬/১১ মুম্বই হামলার পরে কেন সার্জিকাল স্ট্রাইকে করেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, সে ব্যাপারেও কংগ্রেসকে তোপ দাগেন মোদী। একটি জনসভায় মোদী বলেন, “বায়ুসেনার এক প্রাক্তন অফিসার আমায় বলেছিলেন, সার্জিকাল স্ট্রাইক করার ব্যাপারে তারা তৈরি থাকলেও, তৎকালীন সরকার তাতে সম্মতি দেয়নি।” ইউপিএ সরকার এবং তাঁর সরকারের মধ্যে তফাত হল, উরি হামলার পরেই সার্জিকাল স্ট্রাইক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ভাবেই গুজরাতের বুথমুখী জনগণকে কাছে টানার চেষ্টা করেন মোদী।

অবশ্য বিজেপি যে প্রথমই কংগ্রেসকে বিঁধতে পাকিস্তান প্রসঙ্গ নিয়ে এল তা একেবারেই নয়। এর আগেও গুজরাত নির্বাচনে বারবার পাকিস্তান প্রসঙ্গ এনেছেন মোদী। অন্য দিকে গত বার অসম নির্বাচনের সময়ে বিজেপি বলেছিল, অসমে কংগ্রেস জিতলে বাজি পুড়বে পাকিস্তানে।

বারবার পাকিস্তান প্রসঙ্গ টেনে আনার ব্যাপারে মোদীকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। দলের মখুপাত্র মনীশ তিওয়ারি বলেন, “মোদী সেই পুরোনো পাকিস্তান বগিতে ফিরে এসেছেন। ২০০২-তে বারবার মুশারফের কথা নিয়ে আসতেন, ২০১২-তে তুলে ধরতেন ‘স্যার ক্রিক ইস্যু’ (গুজরাতের কচ্ছ অঞ্চলে ভারত এবং পাকিস্তানের সীমান্ত সমস্যা)। এখন তো বলছেন পাকিস্তান নাকি নির্বাচনে নাক গলাচ্ছে। তা হলে দিল্লিতে পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে বরখাস্ত করে দিচ্ছেন না কেন তিনি।”

তিওয়ারি আরও বলেন, “মোদীজি বলছেন মনমোহন সিংহ পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। একটা কথা বলে রাখা ভালো, যে নিজের দশ বছরের প্রধানমন্ত্রীত্বে এক বারও পাকিস্তান যাননি মনমোহন। অন্য দিকে মোদী পাকিস্তান গিয়েছেন এবং তার কিছু দিনের মধ্যে পাঠানকোটে জঙ্গি হামলা হয়েছে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here