আমদাবাদ: পূর্ব ভারতের মতো বন্যার কবলে পশ্চিম ভারতও। সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সব থেকে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে গুজরাত। তার আঁচ পড়েছে পড়শি রাজস্থানেও। দু’রাজ্য মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে যার মধ্যে শুধু গুজরাতেই মৃতের সংখ্যা ৮২।

গুজরাতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পাটন এবং বনসকন্থা জেলা। দুই জেলা মিলিয়ে জলবন্দি প্রায় ৮০০টি গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে উদ্ধারের জন্য সেনা তলব করা হয়েছে ওইসব এলাকায়। ডাকা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও। তবে উদ্ধারকারী দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বৃষ্টি চলতে থাকায় এখনও অনেক গ্রামে পৌঁছতে পারেননি তারা।

ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে উদ্ধারের জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে বিমানবাহিনীর চারটে হেলিকপ্টার। সেই সঙ্গে দু’কলম সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১৮টি দল কাজে নেমেছে। এখনও পর্যন্ত পঞ্চাশ হাজার মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবারও অবিরাম বৃষ্টি চলছে এই সব অঞ্চলে। প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছে রাজধানী আমেদাবাদে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের একাংশ। এর ফলে বিমান পরিষেবাও ব্যহত হয়। মঙ্গলবার বন্যা পরিস্থিতির পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ত্রান এবং উদ্ধারকার্যের জন্য রাজ্যকে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। বন্যার ফলে চাষাবাদে বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষি মন্ত্রী চিমন সাপারিয়া।

অন্যদিকে রাজস্থানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ তিনটে জেলা জালোর, সিরোহি এবং পালিতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব বলেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও দু’দিনে ১৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর মঙ্গলবারও সাড়ে তিনশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে মাউন্ট আবুতে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন