‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প। কিন্তু জেলাভিত্তিক স্বচ্ছতার নিরিখে দেখা গেল তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাত বেশ খানিকটা পিছিয়ে। অন্যদিকে প্রথম পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এ রাজ্যের দুই জেলা নদিয়া আর পূর্ব মেদিনীপুর।

স্বাস্থ্য পরিচ্ছন্নতায় দেশের কোন জেলা এগিয়ে এই বিষয়ে একটি সমীক্ষা করেছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় পানীয় জল ও স্বাস্থ্য-পরিচ্ছন্নতা মন্ত্রকের অধীনে ‘২০১৬ স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ’ নামে এই সমীক্ষাটি করা হয়। দেশের ৭৫টি গ্রামীণ জেলায় করা এই সমীক্ষায় চারটি মাপকাঠি রাখা হয়, বাথরুমের সংখ্যা, বাথরুমের ব্যবহার, প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলা আর গৃহস্থবাড়ির আশেপাশে আবর্জনা ফেলা। বৃহস্পতিবার তার ফল প্রকাশ করা হয়। দেখা যায় পশ্চিমবঙ্গের দুই জেলা নদিয়া আর পূর্ব মেদিনীপুর যথাক্রমে দ্বিতীয় আর চতুর্থ স্থানে রয়েছে। প্রথম স্থান দখল করেছে মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী সিন্ধুদুর্গ জেলা। তৃতীয় আর পঞ্চম স্থানেও রয়েছে মহারাষ্ট্রের দুই জেলা সাতারা আর কোলহাপুর।  

তবে তথৈবচ অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাতের। যে ৭৫টি জেলায় সমীক্ষা করা হয়েছিল তার মধ্যে ৫৩টি সমতল জেলা আর ২২টি পাহাড়ি জেলা। ৫৩টি সমতল জেলার মধ্যে গুজরাতের ছিল ১৩টি জেলাই। এর মধ্যে পরিচ্ছনতার নিরিখে একেবারে নীচের দিকে রয়েছে আমদাবাদ, আনন্দ আর পাঁচমহল জেলা। এই তিনটে জেলা সমীক্ষার চারটে মাপকাঠিতেই ডাহা ফেল করেছে। বাকি দশটি জেলাও খুব একটা ভালো স্থানে নেই। দেশের মধ্যে সব থেকে অপরিচ্ছন্ন জেলার স্বীকৃতি লাভ করেছে রাজস্থানের পালি, দুঙ্গারপুর আর অজমেঢ়। যে ২২টা পাহাড়ি জেলায় এই সমীক্ষা করা হয়েছিল তার মধ্যে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি সব থেকে পরিচ্ছন্ন আর অরুণাচল প্রদেশের আঞ্জাউ সব থেকে অপরিচ্ছন্ন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য-পরিচ্ছন্নতার নিরিখে যে ২৬টি রাজ্যের ওপর এই সমীক্ষা করা হয়েছে তাতে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দ্বাদশ। প্রথম পাঁচটি স্থান পেয়েছে যথাক্রমে সিকিম, কেরল, মিজোরাম, হিমাচল প্রদেশ আর নাগাল্যান্ড। এই সব রাজ্যে প্রায় ৮৮ থেকে ৯৮ শতাংশ গ্রামীণ মানুষ বাথরুম ব্যবহার করেন। অন্যদিকে শেষ তিনটে স্থানে থাকা ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগঢ় আর ওড়িশায় বাথরুম ব্যবহার করা গ্রামীণ মানুষের সংখ্যা মাত্র ১৭ থেকে ২৪ শতাংশ।    

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here