নয়াদিল্লি: গুজরাত দাঙ্গার পর, জাল নথি এবং হলফনামা তৈরি করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন মাজকর্মী তিস্তা শেতলওয়াড়। তদন্তে নেমে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি হলফনামা দাখিল করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। যা নিয়ে কড়া ভাষায় কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি।

দুই রাজনৈতিক লক্ষ্য

অমদাবাদের দায়রা আদালতে তিস্তার বিরুদ্ধে যে হলফনামা পেশ করা হয়েছিল তাতে দাবি করা হয়েছে, হলফনামায় বলা হয়েছে, তিস্তা এবং তাঁর সহযোগীরা মানবতাকে পাথেয় কাজ করছেন না। তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছিলেন। তাঁদের দু’টি উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, গুজরাতের তৎকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলা। এবং দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী-সহ আরও কিছু নিরপরাধ ব্যক্তির নাম জড়িয়ে তাঁদের অপমান করা।

এ বিষয়েই বলা হয়েছে, ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার পর রাজ্যের বিজেপি সরকারকে ফেলতে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা অহমেদ পটেল ৩০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন ধৃত সমাজকর্মীকে। শুধু টাকাই নয়, আরও নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় গুজরাতের বিজেপি সরকারকে আসনচ্যুত করতে যে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ করেছিল বিরোধীরা, তারই একটা অংশ ছিলেন তিস্তা, অভিযোগ এমনই। অন্য দিকে, কংগ্রেসের তরফে এ ধরনের অভিযোগকে প্রথম থেকেই ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়েছে।

ধাপে ধাপে বেরোচ্ছে সত্য

এ প্রসঙ্গে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র বলেছেন, “কংগ্রেস ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গা নিয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যে ভাবে অপমান করার চেষ্টা করেছিল, ধাপে ধাপে সে সব সত্যই বেরিয়ে আসছে”।

তিনি আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে বলেছিল যে কিছু লোক একটি ষড়যন্ত্রের করে এই বিষয়টিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে এবং ভুল তথ্য উপস্থাপন করছে। এখন তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত”।

সম্বিতের দাবি, “হলফনামায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সোনিয়া গান্ধীর প্রাক্তন প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা অহমেদ পটেল। তবে তিনি একটা নাম মাত্র, এসবের পেছনে মূলত সোনিয়া গান্ধীর নাম। গুজরাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন কংগ্রেস নেত্রী”।

কেন তিস্তাকে গ্রেফতার

গত ২৪ জুন, গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে সিট-এর রিপোর্টের বিরুদ্ধে দায়ের করা পিটিশন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অব্যাহতিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল ওই আবেদনে। দাঙ্গায় নিহত কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি ​​ওই আবেদন করেন। সহ-আবেদনকারী হিসেবে ছিলেন তিস্তা। আবেদনটি খারিজ করার সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তিস্তা সম্পর্কে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে, কারণ তিস্তা গোপনে এই মামলায় জাকিয়া জাফরির অনুভূতিকে তাঁর নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন।

২৫ জুন তিস্তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর দিন তিস্তাকে নিয়ে অমদাবাদে পৌঁছয় গুজরাত এটিএস। ষড়যন্ত্র করে, ভুয়ো নথি এবং তথ্য দিয়ে গুজরাত হিংসা মামলাকে প্রভাবিত করার অভিযোগে আদালতে পেশ করা হয় তাঁকে। সেই মামলার তদন্তেই হলফনামা পেশ করেছে পুলিশ।

আরও পড়তে পারেন:

দহনজ্বালা উত্তরবঙ্গে, পাহাড়ে পারদ একত্রিশে

দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ভাই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পালাতে পাড়লেন না দাদা রাজাপক্ষে

পর্যটনকে নেতিবাচক চোখে দেখা বন্ধ হোক, সংবাদমাধ্যমের কাছে আবেদন ভ্রমণ সংস্থাগুলির

ঋষি সুনক বাদে অন্য কাউকে সমর্থন করুন, ঘনিষ্ঠদের এমনই বলছেন বরিস জনসন!

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন