ইতিহাসের অন্যতম ভয়বাহ দুর্যোগের মুখে গুজরাত, পূর্ব ভারতের রাজ্যের শরণাপন্ন

0
বায়ুর প্রভাব সোমনাথে।

আমদাবাদ: প্রাকৃতিক দুর্যোগের খুব একটা মুখোমুখি হয় না গুজরাতকে। শেষবার ২০০১ সালে ভয়বাহ ভূমিকম্প হয়েছিল। তার পর সে ভাবে কোনো দুর্যোগ হয়নি। তাই ঘূর্ণিঝড় বায়ু এগোতেই যেন সন্ত্রস্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমের রাজ্যটি। আর তাই এই দুর্যোগ সামাল দেওয়ার জন্য ওড়িশার শরনাপন্ন হল তারা।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সব থেকে বেশি ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে ওড়িশা। আবার ১৯৯৯ সালের পর যত ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ুক না কেন, সেখানে প্রাণহানির ঘটনাও উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। তার কারণ, ঘূর্ণিঝড়ের আগাম পূর্বাভাস পেয়েই উদ্ধারকাজে নেমে পড়া। ঠিক যেমন ফণীর ক্ষেত্রেও হয়েছে। পুরীতে ঝড় আছড়ে পড়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই নেমে পড়ে ওড়িশা প্রশাসন। সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর ফলে এতো ভয়বাহ দুর্যোগের পরেও মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেশ কম।

আরও পড়ুন রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে বৈঠকে রাজ্যপাল! ডাক পড়ল চার রাজনৈতিক দলের

কী ভাবে মানুষদের সরানো হবে এবং ঘূর্ণিঝড় হলে আর কী কী করনীয় সে’সব ব্যাপারে বিষদে জানতেই বুধবার ওড়িশার মুখ্যসচিব এপি পাধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন গুজরাতের মুখ্যসচিব এএন সিং। প্রয়োজনে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ওড়িশার তরফে।

গুজরাতে শেষ বার কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল ১৯৯৮। সে বার পোরবন্দরে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১০ হাজার মানুষ। তাই সেই ঘটনা এ বার যাতে না ঘটে, সে কারণে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে গুজরাত প্রশাসন। বুধবার সকাল থেকেই দক্ষিণ গুজরাতের তীরবর্তী অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অন্তত তিন লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি দিউ, গির, সোমনাথ, দ্বারকা থেকে পর্যটকদের চলে যাওয়ারও অনুরোধ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ দক্ষিণ গুজরাতের ভেরেবল এবং দ্বারকার মধ্যে দিয়ে এই ঝড় স্থলভাগ অতিক্রম করবে। যদিও স্থলভাগে ঢুকলেও, গুজরাত উপকূল দিয়েই এগোবে সে। যার ফলে প্রবল ঝড়ে বিপর্যস্ত হতে পারে দ্বারকা, পোরবন্দর, সোমনাথ, গির, দিউয়ের মতো উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি। আছড়ে পড়ার সময়ে ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৮০ কিমি। ইতিমধ্যে বায়ুর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গুজরাতে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে প্রবল ঝড়বৃষ্টি। বায়ুর প্রভাবে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে মুম্বইয়েও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here