ওয়েব ডেস্ক:  দুই মহিলাকে ধর্ষণের ১৫ বছরের পুরোনো অভিযোগে কুড়ি বছর জেল হয়েছে তাঁর। জেলে ঢুকেছেন ১৫দিন হয়ে গেল। ডেরাপ্রধান গুরমিত রাম রহিম ক’দিন ধরেই বলছেন, শরীরটা তাঁর ভালো যাচ্ছে না। অস্থির অস্থির লাগছে। কেমন যেন একটা অস্বস্তি হচ্ছে সারাক্ষণ।

পরিস্থিতি দেখে বাবাকে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের একটি দলকে শনিবার জেলে নিয়ে আসেন জেল কর্তৃপক্ষ। রাম রহিমকে পরীক্ষা করে ডাক্তারদের অভিমত, বাবা যৌনতায় আসক্ত। জেলে মহিলাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের সুযোগ না পাওয়াতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে ‘উইথড্রয়াল সিনড্রোম’ হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, এর চিকিৎসা আছে। কিন্তু দেরি করে ফেললে রোগ জটিল আকার নিতে পারে।

কেউ কেউ মনে করছেন, বাবা মদ এবং ড্রাগও খেতেন। সেগুলো না পাওয়াতেও সমস্যা হতে পারে। ড্রাগের ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত না হলেও, বাবা যে মদ খান না, সে ব্যপারে মোটামুটি নিশ্চিত চিকিৎসকরা।

১৯৯০ সালে ডেরা প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর রাম রহিম জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের পরিবার ও যাবতীয় পার্থিব সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন। পরে মামলা চলার সময় আদালতে জানিয়েছিলেন, তিনি যৌনতায় অক্ষম। পরে অবশ্য পালটি খেয়ে বলেন, ১৯৯০ সালের পরেও তাঁর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর যৌন সম্পর্ক ছিল।

সাজা হওয়ার পর জেলে ‘কন্যা’ হানিপ্রীতকে সঙ্গী হিসেবে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন রাম রহিম। কোনো পুরুষ সঙ্গী, স্ত্রী বা সন্তানদের বদলে হানিপ্রীতকে নিয়ে জেলে যেতে চাওয়ায় অনেকেরই সনেদহ হয়, হানিপ্রীতের সঙ্গে নিয়মিত যৌন সম্পর্ক বজায় রাখতেই ওই আবদার ধরেছিলেন বাবা। জেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য সে আবদার মঞ্জুর করেননি। এখন অবশ্য সে সম্ভাবনা আর নেই। কারণ একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ‘লুক আউট’ নোটিশ জারি হওয়ায় হানিপ্রীত গা-ঢাকা দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে রাম রহিমকে সুস্থ করাটা বড়ো চ্যালেঞ্জ চিকিৎসকদের কাছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here