জ্ঞানবাপী মসজিদ। প্রতীকী ছবি

লখনউ: জ্ঞানবাপী মসজিদের (Gyanvapi mosque) ওজুখানায় থাকা ‘পাথর’কে ‘শিবলিঙ্গ’ বলে দাবি করেছে হিন্দুপক্ষ। এই বছরের শুরুর দিকে জ্ঞানবাপী মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিতরে পাওয়া ওই ‘শিবলিঙ্গ’-এর কার্বন ডেটিং-সহ বৈজ্ঞানিক তদন্তের জন্য হিন্দু মহিলা আবেদনকারীদের আবেদনের উপর বারাণসীর জেলা আদালত আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নিম্ন আদালতের নির্দেশে যা নিয়ে একটি ভিডিও সমীক্ষা করা হয়েছে।

পুজো করতে চেয়ে আবেদন

গত সেপ্টেম্বরে মসজিদে পুজো-অর্চনা করতে দেওয়ার জন্য করা আবেদনের উপর শুনানির অনুমতি দিয়েছিল বারাণসী জেলা এবং দায়রা আদালত। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পাশে অবস্থিত জ্ঞানবাপী মসজিদের অভ্যন্তরে পুজো করার অধিকার চেয়ে মামলা করেছিলেন পাঁচ হিন্দু মহিলা। ‘শিবলিঙ্গ’-এর বয়স নির্ধারণের জন্য “বৈজ্ঞানিক তদন্ত”-এর আবেদনও দাখিল করেছিলেন তাঁরা। পাঁচ মহিলা যে আবেদন জানিয়েছিলেন, ১৯৯১ সালের ধর্মরক্ষা আইন অনুযায়ী তা বিচার্য কি না, সেই বিষয়ে রায় দিয়েছিল আদালত।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে মামলাটি বারাণসী জেলা বিচারকের আদালতে স্থানান্তরিত করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছিল, “বিষয়টির জটিলতা এবং স্পর্শকাতরতাকে বিবেচনায় রেখে, বারাণসী জেলা এবং দায়রা আদালতে উত্তরপ্রদেশের বিচার বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন এবং অভিজ্ঞ আধিকারিকের সামনে এই মামলার শুনানি হবে”। তার পর থেকেই শুনানি চলে নিম্ন আদালতে। এ দিন রায়দান করেন বিচারক।

‘জ্ঞানবাপী মসজিদে শিবলিঙ্গ আছে’!

এই আবহে এই পাথরের কার্বন ডেটিংয়ের দাবি উঠেছে। সেই দাবি জানিয়ে একটি মামলা আবেদন করা হয়েছিল বারাণসী জেলা আদালতে। সেই আবেদন গ্রহণ করেছে বারাণসী আদালত। সরকারি সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ওই তদন্ত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।

এর আগে জ্ঞানবাপী শৃঙ্গার গৌরী মামলার শুনানিতে সম্মতি জানিয়েছিল বারাণসী জেলা আদালত। ‘জ্ঞানবাপী মসজিদে শিবলিঙ্গ আছে’, এমন দাবি করে সেখানে পুজো করার আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল বারাণসী আদালতে। হিন্দু পক্ষের সেই দাবি খারিজ করতে পালটা মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল সেই মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরে সুপ্রিম নির্দেশে সেই মামলা ফিরে আসে বারাণসী আদালতে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে একদফা সমীক্ষা চলে মসজিদে। তার পর মসজিদের ভিতরে ছবি তোলা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। এরই মধ্যে হিন্দু আবেদনকারীরা একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তাঁরা বলেন, জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে একটি পুকুরে ‘শিবলঙ্গ’ বা ভগবান শিবের প্রতীক পাওয়া গিয়েছে। যদিও মুসলিম আবেদনকারীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁদের দাবি, যেটাকে ‘শিবলিঙ্গ’ বলা হচ্ছে, সেটা আসলে একটা ‘ঝরনা’।

খবর অনলাইন-এ আরও পড়ুন:

মালবাজারের হড়পা বানকাণ্ডে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা মোদী-মমতার

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন