kobad ghandy

ওয়েবডেস্ক: আট বছর জেলে কাটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাড ঘান্ডি। কিন্তু তিনি মনে করেন পূর্ণ স্বাধীনতা এখনও আসেনি তাঁর জীবনে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অনেক বছর পর মুক্তি পেয়ে ভালো লাগছে। আমি পার্সি খাবার খুব মিস করছি। কত দিন ভালো খাবার খাইনি।”

মাওবাদীদের সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগে ২০০৯-এর সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার করা হয় ঘান্ডিকে। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। এই মামলায় গত বছরই ঘান্ডি রেহাই পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা ঝুলেছিল। দিল্লির তিহার, হায়দরাবাদের চেরলাপল্লী জেলের পরে তাঁর ঠাঁই হয় বিশাখাপত্তনম সেন্ট্রাল জেলে। মুম্বই ফেরার আগে তাঁকে বিশাখাপত্তমের আদালতে আরও দু’বার হাজিরা দিতে হবে।

মুম্বইয়েই ঘান্ডির জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। ২১ বছর বয়সে মুম্বই থেকে লন্ডন পাড়ি দেন ঘান্ডি। চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি পড়ার জন্য লন্ডন গেলেও যখন মুম্বই ফিরে আসেন, তখন তিনি একেবারে পালটে যাওয়া একজন। পার্সি ব্যবসায়ীর ঘরে জন্ম নেওয়া ঘান্ডিকে তখন বাম আন্দোলন অনুপ্রাণিত করতে শুরু করেছে। অবশ্য ঘান্ডির বাম আন্দোলনে হাতেখড়ি লন্ডনেই হয়েছিল।

১৯৭৮-এ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার জন্য একটি কমিটি তৈরি করেন ঘান্ডি। এর পরেই অনুরাধা শানবাগের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। ২০০৮-এ আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকাকালীন ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু হয় শানবাগের। এর পরের বছরই গ্রেফতার হন ঘান্ডি।

দৈনিককে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘান্ডি বলেন, “মুম্বই যাওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমার বোন, ভগ্নিপতি সবাই আমাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমার শাশুড়িও অপেক্ষা করছেন আমাকে দেখার জন্য। বুঝতেই পারছি, যখন আমি পৌঁছোব, কী আনন্দ অপেক্ষা করে থাকবে।”

মুক্তি পেয়ে আনন্দ পেলেও ঝুলে থাকা মামলার কথা ভাবলে এখনও চিন্তায় পড়ে যান তিনি। তিনি বলেন, “এখনও আমাদের বিরুদ্ধে সাতটা মামলা ঝুলে রয়েছে। দশ থেকে পনেরো বছরের পুরোনো সব মামলা। অনেক ক্ষেত্রে এখনও চার্জশিট তৈরি হয়নি। আমার তাই চিন্তা হয় কখন আবার পুলিশ এই মামলা নতুন করে শুরু করবে। এই বয়সে এখনও কত চিন্তা। হ্যাঁ এটা সত্যি যে মুক্তি পেয়ে আমি খুশি, কিন্তু পূর্ণ স্বাধীনতা এখনও পাইনি। আমি এটাই বুঝতে পারি না যে আমাকে এত দিন জেলে রেখেও কেন কিছু মামলার চার্জশিট তৈরি করেনি পুলিশ।”

ঘান্ডির চিন্তা হয় অন্য একটি কারণেও। তিনি বলেন, “আমার গ্রেফতারির পর প্রযুক্তি কত বদলে গিয়েছে। স্মার্টফোন কী ভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটাই তো আমি জানি না।” নিজের স্বাস্থ্য নিয়েও কিছুটা চিন্তিত ঘান্ডি। বুকে হালকা ব্যথা হয়, তাই চিকিৎসকের খোঁজও করছেন তিনি।

তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কিছু চিন্তাভাবনা করেননি ঘান্ডি। তিনি বলেন, “ভবিষ্যত নিয়ে এখনও কিছু চিন্তা করিনি আমি। আমি এখনও জানি না কী করব। এখন আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং ভালো চিকিৎসককে দেখানোই আমার কাছে প্রাধান্য।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here