প্রতীকী ছবি। সৌজন্য: আইস্টক ফোটো

ওয়েবডেস্ক: গত সপ্তাহে প্রতিবেশীর সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসী ডালু বিরহর। তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করল স্থানীয় ‘আদালত।’ শাস্তিস্বরূপ দু’বোতল হাঁড়িয়া জরিমানা দিতে হল তাঁকে। গত মাসে চুরির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন ১৮ বছরের রাখা বিরহর। দু’টি মুর্গি এবং তিন বোতল হাঁড়িয়া, তাঁর জরিমানা হিসেবে ধার্য হয়েছিল।

এই হল ঝাড়খণ্ডের চালখরি গ্রামের গল্প, যেখানে অপরাধে অভিযুক্ত হলে জরিমানা হিসেবে হাঁড়িয়ার বোতল দিতে হয় স্থানীয় বিরহর উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের।

তোপচাঁচির ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বিজয় কুমারের মতে, উত্তরাধিকার সূত্রেই এই কাজটি করে আসছে এই সম্প্রদায়। তাঁর কথায়, “কোনো অপরাধ বা গণ্ডগোল হলে স্থানীয় বিরহর সম্প্রদায়ের মানুষরা জেলা প্রশাসন বা আদালতের দারস্থ হন না। নিজেদের মধ্যেই সেই ঝামেলা মিটিয়ে ফেলেন। সামাজিক আদালত যে রায় দেয়, সেই রায়ের বিরোধিতাও কেউ করে না।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই নিয়মের ফলেই এই গ্রামে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রয়েছে। তাঁর কথায়, অপরাধের মাত্রার ওপরে নির্ভর করে কার কী রকম শাস্তি হবে। তিনি বলেন, “কেউ যদি মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে তা হলে তাকে দু’টো হাঁড়িয়ার বোতল দিতে হবে, চুরির ক্ষেত্রে দিতে হবে পাঁচটা এবং আরও ঘোরতর অপরাধ হলে দশটা বোতল জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।”

আরও পড়ুন নিজেদের ব্যাঙ্ক, পুলিশ ও আরও অনেক কিছু, কী ভাবে কয়েকটি রাজ্যে সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছে আদিবাসীরা

এই সামাজিক আদালতের নেতৃত্বে রয়েছেন সমাজপ্রধান মাঝি হারাম। এ ছাড়া হারামকে সহযোগিতা করার জন্য আরও চার জন রয়েছেন। তেমনই একজন সুকর বিরহর বলেন, “আমাদের গ্রামে পুলিশ আসে না। পুলিশ আসার দরকারই পড়ে না। আমরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মিটিয়ে ফেলি। পুলিশের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।”

জরিমানা হিসেবে যে হাঁড়িয়ার বোতল জমা পড়ে, সেগুলি নিজের কাছে রেখে দেন হারাম। বছরে তিন বার করে মহাভোজের আয়োজন করা হয়। তখন এই বোতলগুলির সদ্বব্যহার করা হয়।

তোপচাঁচি থানার এই চালখরি গ্রামে ৭০ পরিবারের বাস। সুকর বিরহরের কথার সঙ্গেই সহমত পোষণ করেন থানার অফিসার-ইন-চার্জ শিবপুজান বরলিয়া। তিনি বলেন, “আমি দেড় বছর এই থানায় রয়েছি। কখনও এই গ্রামের কোনো বাসিন্দার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগও পাইনি।”

১৯৭২ সালে বন্যপ্রাণ রক্ষা আইন নিয়ে আসে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তার বহু কাল আগে থেকেই বিরহর সম্প্রদায় বন্যপ্রাণ হত্যার ওপরে নিজেদের মতো নিয়ম চালু করে দিয়েছে। শিয়াল মারা হলে দু’বোতল হাঁড়িয়া জরিমানা হয় আর যদি চিতাবাঘকে মারা হয়, তা হলে জরিমানা দিতে হয় অন্তত দশ বোতল হাঁড়িয়া।

সৌজন্যে: এনডিটিভি 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here